Blue Whale Game । ব্লু হোয়েল গেম। রাজা সহিদুল আসলাম

0
873

Blue Whale Game । ব্লু হোয়েল গেম

রাজা সহিদুল আসলাম

ব্লু হোয়েল গেম বর্তমানে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এটি একটি অন লাইন গেম। আমরা কমবেশি অনেকে ওয়েবের সাথে পরিচিত কিন্তু এর পেছনে আরও একটি ওয়েব আছে যেটিকে আমরা সচরাচর দেখতে পাইনা। সেটি হলো ডার্কওয়েব।ব্লু হোয়েল হলো ডার্কওয়েব গেম।খুবই রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেন্জিং মুখর একটি গেম। যে কোনো কিশোর কিশোরী এই গেমে আকৃষ্ট হতে পারে। গেমটিকে সেইভাবে সাজানো হয়েছে। আর কৈশোর বয়সীরা চ্যালেন্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করে।
ব্লু হোয়েল গেম তৈরি করেন রাশিয়ার এক তরুন যার নাম ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে তিনি এই গেম তৈরি করেন। প্রথম দিকে খুব একটা প্রচার পায়নি এই গেম। ২০১৫ সালে গেমটি প্রসার লাভ করে। ফিলিপ বুদেকিন মনোবিঞ্জানের ছাত্র ছিলেন।যখন রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের কয়েকজন কিশোর কিশোরী এই গেমের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যা করে তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। আর তখনই তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়। কেন ফিলিপ বুদেকিন এই গেম তৈরি করেছেন, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন – সমাজে যারা হতাশাগ্রস্ত, বিকারগ্রস্ত, অপ্রয়োজনীয় তাদেরকে তিনি সরিয়ে ফেলতে চান। খুবই হাস্যকর তার কথা। কেউ কেউ বলছেন ফিলিপ বুদেকিন নিজেই একজন মানসিক রোগী।
ব্লু হোয়েল গেমের কারণে গোটা বিশ্বে ১৫০ জনেরও বেশি কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। বাংলাদেশে একজন কিশোরী আত্মহত্যা করলে বাংলাদেশেও এর আলোচনা সংবাদপত্র, টেলিভিষণ এবং অন্যান্য মিডিয়ায় স্থান পায়।
কী আছে ব্লু হোয়েল গেমের ভেতর? এও কি সম্ভব, একটি মাত্র গেম, যে কিনা একজন মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারে? বুদ্ধিমান বটে ফিলিপ বুদেকিন। এই গেমের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ১৪/১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের। অন্যদেরকে এই গেম খেলার সুযোগ দেওয়া হয়না।
ফিলিপ বুদেকিনের কারিশ্মা এমনই যে একবার এই গেম ইন্সটল করলে তার পরবর্তীতে আনইন্সটল করা যায়না। গেমটি সিস্টেমের ভেতর ঢুকে যায়।


গেম শুরু করা মানে ফাঁদে পা দেওয়া।
মোট ৫০টি লেবেল বা ধাপ রয়েছে এই গেমের।
এই গেম এবং ইউজারকে কন্ট্রোল করে একজন এডমিন। শুরুতেই এডমিন ইউজারকে বলে তুমি গেম শুরু করলে আর বের হতে পারবেনা। এবং গেমের সর্ব শেষ ফলাফল হতে পারে তোমার মৃত্যু। তুমি কি নিশ্চিত? খেলতে চাও? যদি খেলতে চাও তাহলে Yes লেখো। আর যদি খেলতে না চাও তাহলে বেড়িয়ে যাও। অল্প বয়সী ইউজার ভাবে – একটা গেম কীভাবে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে? অবাক হয়, আকর্ষণও অনুভব করতে পারে। রোমান্চকরও বটে। কৌতুহলবশত ইউজার Yes করে দিতে পারে বা দেয়। এবং নিজের অজান্তেই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে।
৫০ ধাপের মধ্যে প্রথম ১০ ধাপ বেশ আকর্ষণীয়। এই ১০ ধাপে এডমিন বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়। যেমন বলে – তুমি তোমার পছন্দের খাবার খাও। তুমি তোমার পছন্দের জায়গায় বেড়াতে যাও। কখনো বলে – মাঝরাতে হরর মুভি দেখো। ছাদের ধার ঘেঁষে হাঁটাহাটি করো। ইত্যাদি। এইসব দ্বারা ইউজার গেমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এইসবের ফাঁকে ফাঁকে এডমিন ইউজারের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য নিয়ে নেয়। যেমন ইমেইল আইডি, ফেসবুক আইডি, পাসওর্য়াড, ফটো গ্যালারী, আইপি এ্যাড্রেস। লোকেশন তারা পেয়েই যায়। শুধু তাই নয় ব্যাংকিং ইনফরমেশনও তারা কৌশলে নিয়ে নেয়। ১৫ লেবেল বা ধাপ পর্যন্ত চলে ব্যক্তিগত ইনফরমেশন হাতিয়ে নেওয়ার কাজ। যারা মারা গেছে তাদের ব্যংক থেকে ফিলিপ বুদেকিন টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।
১৫ লেবেল বা ধাপ পার হলে এডমিন অল্প অল্প শক্ত টাস্ক/নির্দেশনা দিতে থাকে। যেমন – তোমার হাত সূঁচ দিয়ে ফুটা করো। অথবা ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে তিমির ছবি আঁকো। প্রমাণ স্বরূপ ছবি তুলে পোস্ট করো। এইভাবে চলে ২০ ধাপ পর্যন্ত।
২১ ধাপে এসে এডমিন বা গেম কর্তৃপক্ষ কৗশল পরিবর্তন করে। শুরু হয় সম্মোহন করা। সম্মোহন হলো মস্তিষ্ককে কন্ট্রোল করার এক ধরণের প্রক্রিয়া। সম্মোহনের মাধ্যমে ইউজারকে দিয়ে অনেক ধরণের কাজ করানো হয়। যেমন – বাবার টাকা চুরি করা, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খালি গায়ে ঘুরে বেড়ানো, সারাদিন না খেয়ে থাকা, বন্ধুদের জিনিস চুরি করা, বাবা মার সঙ্গে ঝগড়া করা ইত্যাদি। এ সব যে সে করেছে তার প্রমাণ হিসেবে সে সবের ছবি তুলে পাঠাতে হয়। এইসব চলে ২৫ ধাপ পর্যন্ত।
২৬ ধাপ থেকে ৩০ ধাপ পর্যন্ত চলে ড্রাগ নেওয়া। ইউজারকে সম্মোহনের মাধ্যমে ড্রাগ নেওয়ায় অভ্যস্ত করা হয়।
৩১ ধাপে এসে এডমিন বা গেম কর্তৃপক্ষ আরও কৌশলী হয়ে ওঠে। তারা ৩১ ধাপে এসে গেম লক করে রাখে। কিছুতেই খুলে দিতে চায়না। অপরদিকে ইউজার লক খোলার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তখন এডমিন বলে তোমার নগ্ন ছবি পাঠাও। সেইসঙ্গে ড্রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এবং এডমিন বলে কারো সঙ্গে সেক্স করো। প্রমাণ হিসেবে ছবি পাছাও। সম্মোহন আর অতি মাত্রায় ড্রাগ নেয়ার কারণে এডমিন যা বলে ইউজার তাই করে। এইভাবে চলে ৪০ ধাপ পর্যন্ত।
৪১ ধাপে এসে ইউজার মানসিকভাবে ও শারিরীকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরে। সে এডমিনকে বলে – আমি আর পারছিনা, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি গেমটি আনইন্সটল করতে চাই। তখন শুরু হয় ইউজারকে ব্লাকমেইল করা। গেম কর্তৃপক্ষ ইউজারকে বলে – তুমি যদি আর না খেলো তাহলে আমরা পুলিশকে সবকিছু জানিয়ে দিব, তোমার বাবা-মা, বন্ধু আত্মীয়-স্বজন, সকলকে। তোমার ছবি সহ সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় ইউজারকে ভয় দেখানো হয়, তারা বলে, তুমি যদি না খেলো তাহলে তোমার বাবা মাকে মেরে ফেলা হবে।
৫০ ধাপে ইউজারকে বলা হয় – এবার তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তোমার সব ছবি, ইনফরমেশন ফেরত দেওয়া হবে এবং গেম আনইন্সটল করতে পারবে। শর্ত একটাই। আমাদের বিশেষ একটা ড্রাগ আছে, সেটা নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। ১৫ বা ১৬ বা ১৭ তলা ছাদের কিণারে গিয়ে তোমার শরঅরে পুশ করবে এবং ছবি আপলোড করবে।
ইউজার মুক্তির আশায় তাই করে। তখন এডমিন ইউজারকে স্বগত জানায় এবং বলে – এখন থেকে তুমি মুক্ত। তো তুমি আর দেরী করছো কেন? তুমি তোমার গন্তব্যে যাও। নিচে ঝাপ দাও।
সম্মোহন আর ড্রাগ তাকে এতখানি গ্রাস করে যে, সে মুক্তির আশায় ইপর থেকে নিচে ঝাপ দেয়।


(বিভিন্ন মিডিয়া, ইন্টারনেট এবং দীর্ঘদিন অনলাইনে কাজ করার অভিঞ্জতা দিয়ে লেখক এই রচনাটি তৈরি করেছেন – এডমিন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here