লোকশিল্প। বাংলাদেশের লোকশিল্প। রাজা সহিদুল আসলাম

0
300

লোকশিল্প। বাংলাদেশের লোকশিল্প

রাজা সহিদুল আসলাম

লোকজীবন, লোকসমাজ, লোকসংগীত, লোকসংস্কৃতি, লোকশিল্প। অনেক ‘লোক’ দেখা যায়। তাহলে ‘লোক’ আর ‘মানুষের’ মধ্যে কি পার্থক্য আছে?… রাজা, বাদশা, সম্রাট, মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান, মেয়র – তাঁরা কি ‘লোক’ নাকি মানুষ? এ রকম প্রশ্ন কারো কারো মনে উদয় হতেই পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পনের আনা প্রবন্ধের কথা মনে পড়ছে। সমাজের পনের আনা সাধারণ মানুষ, বাকি এক আনা অসাধারণ। এক সময় বাংলাদেশের আশি শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত ছিল। মানে কৃষক। এই সাধারণ মানুষরাই আমাদের কাছে ‘লোক’ বলে পরিচিত। এই সাধারণ মানুষের শিল্পই ‘লোকশিল্প’।সাধারণ মানুষের ‘লোক শিল্প’ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে খাচ্ছে অসাধারণ মানুষেরা। যেমন কোদল তৈরি হচ্ছে যেই ফ্যাক্টরিতে সেই ফ্যাক্টরির মালিক কিন্তু কোনো কৃষক নয়। কিংবা লাঙ্গলের ফলা বা জমি চাষের ট্রাক্টর – এসব কোম্পানি বা ফ্যাক্টরির মালিক অন্য কেউ। যা হোক, রাজা বাদশা বা নামী-দামী মানুষের মিউজিয়াম রয়েছে দেশে দেশে, রাজধানীতে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত জিনিসের মিউজিয়াম থাকা দরকার। ইত:মধ্যে দেখেছি ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘লোকায়ণ’ নামে একটি লোক মিউজিয়াম। এজন্য সাধুবাদ ইএসডিও-কে এবং ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামানকে। এরকম একটা কাজ করতে কী রকম শ্রম, সময়, অর্থ ও মেধা দরকার তা আমরা কিছুটা জানি।
লোকশিল্প আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে নিবিড়ভাবে ধারণ করে আছে। এই লোকশিল্পকে নিবিঢ়ভাবে দেখলে ও চিন্তা করলে বোঝা যায়, সাংসারিক প্রয়োজনে, সামাজিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ যে শিল্প গড়ে তুলেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক, সহজ ও সহজলভ্য এবং বুদ্ধি-মেধা সম্পন্নও বটে। অনেক ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও খুজে পাওয়া যায়। আর সবকিছুই প্রকৃতি বান্ধব তাই প্রকৃতির ক্ষতি তো করেই না বরং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন। আমরা এখন পলিথিনের ব্যবহার দেখছি সর্বত্র। এর যে ভয়াবহতা তা আমরা জানি।
এ বিষয়ক মিউজিয়াম অবশ্যই জরুরি। এখানে মূলত: আমরা লোকশিল্পের ছবিকেই প্রাধান্য দেবো।

মাছ ধরার উপকরণ

নিত্য প্রয়োজনীয় উপকরণ

নান্দনিক শিল্প

বাদ্যযন্ত্র

উপরোক্ত ছবিগুলো লোকশিল্প যাদুঘর ‘লোকায়ণ’, ঠাকুরগাঁও থেকে তোলা হয়েছে। – লেখক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here