বেতার নাটক আনন্দের ফোয়ারা রচনা: রাজা সহিদুল আসলাম

0
635

বেতার নাটক

আনন্দের ফোয়ারা

রচনা: রাজা সহিদুল আসলাম

চরিত্র:
বাবা – বয়স ৫৯ বছর। চাকরিজীবী। পিআরএল-এ আছেন।
মা: বয়স ৫৪ বছর। গৃহিনী।
বড়ছেলে: রাহাত (খোকা)। বয়স ৩১ বছর। চাকরিজীবী।
মেজো ছেলে: রন্জু। বয়স ২৮ বছর। বেকার।
সেজো ছেলে: শাহজাহান। বয়স ২৪ বছর। ছাত্র।
মেয়ে: রেহানা। বয়স ২১ বছর। ছাত্রী।
মেয়ে: লাইজু। বয়স ১৯ বছর। ছাত্রী।
মেয়ে: সুমাইয়া। বয়স ১৪ বছর। ছাত্রী।
কাজের মেয়ে: মন্জুয়ারা। বয়স ১১ বছর।
সারাংশ
একটি নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা চাকরিজীবী। পিআরএল-এ আছেন। পরিবারের বড় ছেলে চাকরিজীবী। অন্য জেলায় পোস্টিং। বাকী পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে এক ভাই বেকার। এক ভাই, এক বোন বাইরে পড়ে। বাকী দুই বোন স্থানীয় স্কুল-কলেজে পড়ে। বড় ভাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছে। সঙ্গে সবার কাপড়-চোপর এনেছে। এই নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। খাবার টেবিলেও নানা রকম গল্প-গুজব। অনেক অভাব অনটনের মাঝেও এক আনন্দঘন পরিবেশ। অর্থ-বৈভব আর সুখ-শান্তি যে এক নয় তা এই নাটক থেকে বোঝা যাবে। অর্থই সকল সুখের মূল – এই কথাটি এই নাটকে প্রযোজ্য নয়। সুখ-শান্তির জন্য মূল্যবোধ, সুরীতি, শিক্ষা – এসবের প্রয়োজন, যা টাকা দিয়ে সম্ভব নয়।
১ম অংশ
আবহ সংগীত
(মা, রন্জু, শাহজাহান, রেহানা, লাইজু ও সুমাইয়া থাকবে। ঘরে অবস্থান করবে। সবাই অপেক্ষা করবে বড় ছেলে রাহাতের জন্য। একটু পরে ঘরে প্রবেশ করবে রাহাত।)
সুমাইয়া: মা, বড় ভাইয়া কোথায় গেলো?
মা: বাইরে।
রন্জু: বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে।
মা: যাবে না? এতদিন পর এলো।
(এ সময় রাহাত ঘরে প্রবেশ করবে।)
লাইজু: ওই যে, ভাইয়া এসে গেছে।
রেহানা: আমরা সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি।
রাহাত: কেন?
সুমাইয়া: বারে, তুমি আমাদের জন্য কী এনেছো, দেখবো না?
রাহাত: ও হ্যাঁ, শাহজাহান, আমার কালো ব্যাগটা নিয়ে আয়।
শাহজাহান: আনছি।… এ..এই নাও। (ব্যাগ রাখার শব্দ হবে।)
রন্জু: ভাইয়া একটু থামো।
রাহাত: কেনো?
রন্জু: উদ্বোধন হবে।
রাহাত: কিসের উদ্বোধন?
রন্জু: ব্যাগ খোলার উদ্বোধন।… মা উদ্বোধন করবে।
(ভাইবোনরা সবাই ‘দারুন আইডিয়া’ বলে মাঝারি চিৎকার করে উঠবে)
(দৌড়ানোর শব্দ হবে। সুমাইয়া দৌড়ে গিয়ে ফিতা আর কেচি নিয়ে আসবে।)
সুমাইয়া: এই নাও।…(চিৎকার করে ডাকবে).. মন্জু… মন্জু… (মন্জু দৌড়ে আসবে)
মন্জুয়ারা: মোক্ ডাকতেছো?
সুমাইয়া: এইখানে আয়, ফিতার একপাশে ধর।
মা: তোরা এইসব কী শুরু করলি? রন্জুটা এক নম্বর বদমাইশ। সরা এইসব।
রন্জু: এত সুন্দর একটা আইডিয়া! শুধু সুন্দর না, ইনোভেটিভ বলা যায়, তুমি পছন্দ করছো না?
মা: একটা চাকরি যোগাড় করতে পারিস না, আর আইডিয়া…। আইডিয়া তোর কাজে লাগা…
রন্জু: চাকরি পেলে তো কাজে লাগাবো…
রেহানা: মা, তুমি যাই বলো, মেজো ভাইয়া কিন্তু দারুন একটা আইডিয়া দিয়েছে। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ব্যাগ খোলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবেই হবে। … সেজো ভাইয়া, তোমার কী মত?
শাহজাহান: আমি তোর সাথে একমত।
রেহানা: সুমাইয়া, লাইজু, তোদের কী মত?
সুমাইয়া: বারে, আমি তো ফিতা আর কেচি নিয়েই এলাম।
লাইজু: মন্দ না, এ রকম কখনো কোথাও শুনিনি। একেবারে নতুন। আমি ছবি তুলে ফেসবুকে দিব।
রেহানা: বড় ভাইয়া, তুমি চুপ করে আছো কেন? কিছু বলছো না যে?
রাহাত: ও হ্যা, … আমি আসলে অন্য কথা ভাবছিলাম।… অনুষ্ঠানে বাবার উপস্থিতি দরকার ছিলো।
মা: তোরা কী শুরু করলি? …আমি এখান থেকে চলে যাবো।
(এ সময় বাবা ঘরে ঢুকবেন।)
সুমাইয়া: (উচ্ছসিত) ওই যে বাবা চলে এসেছে।
বাবা: কী হয়েছে?
মা: আমি যাই, অনেক কাজ আছে। তোদের সঙ্গে থাকলে আমার চলবে না।
রাহাত: এই যে, এবার যাও তো দেখি?
মা: আমার হাত ছাড়।
বাবা: হয়েছে কী, বলবে তো?
লাইজু: বড় ভাইয়া ঈদের কাপড়-চোপর এনেছে, আমাদের সবার জন্য। মেজো ভাইয়া বলল – ‘মা’ ব্যাগ খুলে উদ্বোধন করবে। তাই মা রেগে গেছে।
বাবা: ও এই কথা! ব্যাগ খুলতে সমস্যা কোথায়? খোলো খোলো…
মা: আমি খুলবো না।
বাবা: কেন? সমস্যা কী?
মা: ওই দেখো, ফিতা নিয়ে এসেছে।
বাবা: তাই নাকি? তা হলে তো আরও ভালো। একটা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠান ভাব থাকবে।
মা: তুমিও ওদের দলে?
বাবা: না থেকে উপায় আছে? তা ছাড়া গণতান্ত্রিক রায়, মেনে নিতেই হবে।
রাহাত: বাবা তুমিও আসো, তুমি আর মা এক সঙ্গে ফিতা কাটো।
সুমাইয়া: মন্জু আয় আয়, ফিতা র্ধ। মা, নাও, কেচি নাও। বাবা, তুমি মার হাত ধরো। মেজো আপু, তুমি ছবি তোলো।
লাইজু: তোমরা কাছাকাছি দাঁড়াও, ছবি তুলি।
( ছবি তোলার শব্দ হবে। সবাই হাত তালি দেবে। উচ্চ¦াস ধনি প্রকাশ করবে।)
সুমাইয়া: উদ্বোধন হয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি দাও, আমার তর সইছে না।
রন্জু: এত ব্যস্ত হচ্ছিস কেনো? … মা, তুমি একটা বক্তৃতা দাও, মানে তোমার অনুভূতি।
মা: আমার অনেক কাজ আছে। তোদের সঙ্গে থাকলে চলবে না। আমি যাই…
রাহাত: মা, তুমি বসো তো। … রন্জু, তুই সব কিছুতে বাড়াবাড়ি করিস।
শাহজাহান: ভাইয়া, তুমি বের করো। কী এনেছো আমাদের দিয়ে দাও।
রন্জু: কেন? তোর এত তাড়া কিসের?
রেহানা: তোমরা যে কী, আসল বিষয় বাদ দিয়ে অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাও।
বাবা: হয়েছে, কথা বন্ধ কর, … রাহাত, বের র্ক, …
রেহানা: ভাইয়া, শুরু করো…
রাহাত: এ…এই যে, প্রথমে পাবে সুমাইয়া, … নে।
সুমাইয়া: দাও। … ও মা … কী … সুন্দর! (প্যাকেট খোলার শব্দ হবে।)
লাইজু: দেখি … দেখি …।
রাহাত: পরে দেখিস। আগে দিয়ে নেই। … এবারে লাইজু তুই … এই নে…।
লাইজু: দারুন, আমারটাও সুন্দর।… কত দাম হয়েছে ভাইয়া? … বাড়িয়ে বলবে না কিন্তু। আসল দাম বলবে।
মা: এ্যা…ই, চুপ র্ক । (মুখ ভেংচিয়ে) দাম বাড়িয়ে বলবে না! জানিস? এত কাপড় কিনতে কত টাকা লাগে?
রাহাত: পরে শুনিস। … এটা রেহানার জন্য। নে। … এটা শাহজাহানের জন্য।
শাহজাহান: দাও।… শার্ট?
রাহাত: কেন? কোনো সমস্যা?
শাহজাহান: না, মানে, বাবাও শার্ট দিয়েছে। পান্জাবী হলে ভাল হতো।
রাহাত: তুই কলেজে যাচ্ছিস, তাই, পান্জাবী তো বেশি পরতে পারবি না। আচ্ছা দেখি, এখান থেকে একটা পান্জাবী কেনা যায় কি না।
মা: সেটার দরকার নাই, গত বছরের পান্জাবীটা ভাল আছে। ওটা পরেই ঈদের নামাজে যেতে পারবে। শার্ট কিনে ভাল করেছিস। দরকার ছিলো।
শাহজাহান: মা ঠিকই বলেছে। নামায ছাড়া পান্জাবী পরা হয় না। কিনতে হবে না।
রাহাত: তোকে ওটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। … রন্জু, এই নে, তোর জন্য পান্জাবী … কী ঠিক আছে তো?
রন্জু: হ্যা, ঠিক আছে। বাবাও পান্জাবী দিয়েছে। শাহজাহান যদি চায় ওর শার্টটা দিয়ে পান্জাবীটা নিতে পারে।
শাহজাহান: না … না …, আমি এক্সচেন্জ করবো না। আমার শার্টটা সুন্দর।
রন্জু: তুই পান্জাবীর কথা বললি, তাই এই অফারটা তোকে দিলাম।… আমার পান্জাবীটাও সুন্দর।
রাহাত: তোদের বিতর্ক বন্ধ র্ক । তোরা সবাই ভাল বিতর্ক করতে পারিস, সেটা বাসায়, কিন্তু স্কুল কলেজে এত বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়, একজনকেও ফার্স্ট হতে দেখলাম না।
সুমাইয়া: (হাত তালি দিয়ে) ঠিক বলেছো ভাইয়া। বাইরে পারে না, বাড়িতে এসে শুধু আমাকে শাসায়।
রাহাত: তোমার খুশি হওয়ার কিছু নাই। তোমার অবস্থাও খুব একটা ভালো না।
সুমাইয়া: কেন? আমি একবার আবৃত্তিতে সেকেন্ড হয়েছি।
মা: একবার হয়েই কি সব হয়ে গেছে? দেখবো এসএসসি তে কী রেজাল্ট করো।
রাহাত: মা, তুমি চোখ বন্ধ করো তো!
মা: কেনো?
রাহাত: বন্ধ করো না!
মা: বলবি তো কেন?
রন্জু: বলছে বন্ধ করো!
রেহানা: ভাইয়া যখন বলছে, বন্ধ করেই দেখো…
মা: আচ্ছা, ঠিক আছে, নে চোখ বন্ধ করলাম।
রাহাত: হাত দু’টা সামনে আনো।
মা: আনলাম।
রাহাত: এ… এই ধরো…, এবার চোখ খোলো …
মা: কী রে, এটা কিসের প্যাকেট?
বাবা: খুলে দেখো!
(প্যাকেট খোলার শব্দ হবে।)
মা: খোকা! এটা তো শাড়ি!
রাহাত: তোমার জন্য।
মা: আমার জন্য? … কী দরকার ছিলো এতগুলো টাকা খরচ করার? তোর বাবা তো আমাকে শাড়ি দিয়েছে! তোর বাবা সবার জন্য কেনাকাটা করেছে! তোর জন্যও কিনে রেখেছে।
বাবা: কিনেছে, বেশ করেছে।
রেহানা: মা, দেখো, এটা জামদানী। আঁচলটা কী সুন্দর!
( সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে এবং হাত তালি দেবে।)
মা: (ফিসফিস করে বলবে।) খোকা, তোর বাবার জন্য কিছু আনিস নি?
রাহাত: (ফিসফিস করে।) এনেছি তো!
বাবা: তোমরা মা-ছেলে ফিসফিস করছো কেন? আমরা এতগুলো মানুষ এখানে আছি!
শাহজাহান: তাই তো, তোমরা কী বিষয় নিয়ে কথা বলছো?
মা: সব কথা তোদের শুনতে হবে?
রাহাত: এটা মা আর আমার বিষয়। তোমাদের বলা যাবেনা। … বাবা, এই নাও, তোমার জন্য।
বাবা: (হেসে) আমার জন্যও এনেছিস? … আয়, আমার কাছে আয়, তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। … তুই দীর্ঘজীবী হ, সুস্থ থাকবি, ভাল থাকবি। আজ খুব আনন্দ হচ্ছে রে, …আবার কষ্টও হচ্ছে … তোদের সব চাহিদা আমি পূরণ করতে পারিনি। শখ করে কিছু আনবো, সেটাও পারিনি। তোরা কষ্ট করে বড় হয়েছিস। অনেক ব্যর্থতা নিয়ে এতগুলো বছর পাড়ি দিয়ে চলেছি। এখন, এই বয়সে, আর কিই বা করতে পারবো। দোয়া করা ছাড়া আমার আর কোনো সম্বল নাই। তোরা সবাই ভাল থাকলে আমার সুখের অন্ত থাকবে না।
সুমাইয়া: ভাইয়া, মন্জুর জন্য কিছু আনোনি?
রাহাত: হ্যা … হ্যা, এনেছি তো। মন্জু দূওে দাঁড়িয়ে আচিস কেন? এদিকে আয়। এই নে…।
মন্জু: দেও। অ মা, কী সোন্দর জামা! মোক খুবে মানাবে।

আবহ সংগীত
২য় অংশ
(সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ প্রচার হয়নি। সবাই উদগ্রীব।)
সুমাইয়া: বড়াপু, ঈদের চাঁদ দেখা গেলো না। আমি অনেকক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখার চেষ্টা করলাম। আকাশে মেঘ। দেখা গেলো না।… চাঁদ দেখা গেলে তো সাইরেন বাজতো?
রেহানা: টিভিটা ছাড়। ওখানে বলবে।… শোন, রেডিওটা নিয়ে আয়। ঠাকুরগাঁ বেতার ধর।
সুমাইয়া: এই যে রেডিও এনেছি।
রেহানা: দে।
(রেডিওর নব ঘোরানোর শব্দ হবে। চাঁদ দেখা গেছে এই রকম ঘোষণা হবে। এরপরই নজরুলের গান বাজবে Ñ রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।)

৩য় অংশ
(রাতের খাবারের সময় হয়েছে। মা টেবিলে খাবার রেডি করে সবাইকে ডাকবে। পরদিন ঈদ।)
মা: (চিৎকার করে) লাইজু, সুমাইয়া খেতে আয়।… রন্জু? … শাহজাহান, রেহানা খেতে আয়।
রেহানা: (অল্প চিৎকারে) আসছি মা। … সুমাইয়া, লাইজু চল, মা ডাকছে।
মা: রন্জু, শাহজাহান, খেতে আয।
শাহজাহান: (মধ্যম চিৎকারে) আসছি।
মা: সবাই বস্ । তাড়াতাড়ি খেয়ে নে। কাল ভোরে উঠতে হবে।
রন্জু: মা, আজ মেনুতে কী রেখেছো? কাল তো অনেক আয়োজন থাকবে।
মা: খেলেই বুঝতে পারবি।
রন্জু: না, এমনি বললাম। তোমার বড় ছেলে এতদিন পর এসেছে, মুরগি-টুরগি থাকতেই পারে!
মা: আছে তো! তোদের সবার জন্যই আছে।
রন্জু: সবাই শুরু করো Ñ চিয়ার্স।
(সবাই এক সঙ্গে বলবে – চিয়ার্স।)
রেহানা: তোদেকে তো বলাই হয়নি, মুরগির মাংস দেখে মনে পড়লো।
শাহজাহান: কী?
রেহানা: একটা দারুন ঘটনা।
রন্জু: বলে ফেল্ , দেরী করিস না।
লাইজু: নি:শ্চয়ই মজার? তাড়াতাড়ি বলো।
রেহানা: সব স্কুল কলেজ প্রথম রোজা থেকেই ছুটি। ডাইরেক্ট বাস পেলাম মেডিকেল মোড়ে। প্রচ- ভীড়। আমি সিট পেয়েছি ড্রাইভারের পেছনের সিটে। অনেক মেয়ে মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। ঠেলাঠেলি আর বাসের ব্রেক কষাকষিতে এক বয়স্ক মহিলা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। সম্ভবত ভিক্ষা করে। সে ইন্জিনের পাশে নিচে বসে পাড়েছে।
লাইজু: তারপর?
রেহানা: একটু পরেই কন্ডাক্টও বাসে থাপ্পর মারলো, ড্রাইভার বলল – কী হোইছে? কন্ডাক্টর বলল Ñ বমি র্কছে। আমি মাথা ঘুরিয়ে দেখি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা বমি করেছে বয়স্ক মহিলার গায়ে। আমার তো অবস্থা খারাপ।
শাহজাহান: তারপর তুইও সেই কাজটাই করলি।
রেহানা: না, না।
সুমাইয়া: তারপর কী হলো?
রেহানা: সেই কথাই তো বলতে চাচ্ছি।
শাহজাহান: বল্।
রেহানা: দেখি কী, ওই মহিলার মাথার মাঝখানে একটা মাংসের টুকরা।
লাইজু: ছি:! আমি আর মাংস খেতে পারবো না। খাবার সময় এই ধরণের গল্প কেউ বলে?
শাহজাহান: তাতে রুচি নষ্ট হয়।
রন্জু: রেহানা, গল্পটা তোর এডিট করে বলা উচিৎ ছিল।
শাহজাহান: এডিট করে গল্প বললে গল্পের অঙ্গহানি হয়। সঠিক শিল্পরস পাওয়া যায় না।
লাইজু: এর মধ্যে তুমি শিল্পরস খুঁজছো? ছি:, আমার খাওয়াটাই নষ্ট হয়ে গেলো।
শাহজাহান: খাওয়া ছেড়ে উঠিস না। রেহানা এডিট করে, সুশিল শব্দ ব্যবহার করে, গল্পটা বলেনি তো কী হয়েছে। তুই এডিট করে শুনলেই হয়!
রন্জু: মনে র্ক তুই গল্পটা শুনিস নি। এখন মাংসটা খেয়ে নে।
লাইজু: ছি:।
রন্জু: আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি তোদেরকে একটা সুশিল গল্প শোনাই। গ্যাসের গল্প।
লাইজু: ভাইয়া আমি উঠে পড়বো।
রন্জু: আহা, বাংলাদেশে গ্যাস-কয়লা নিয়ে কত কী হয়ে গেছে, তুই খারাপ বলছিস কেনো?
লাইজু: অমি জানি, তুমি অন্য কথা বলবে।
রন্জু: দ্যাখ্, সব কিছুতে সন্দেহ করা ঠিক না, বুঝলি? জানিস, সন্দেহ জিনিসটা কত খারাপ?
লাইজু: জানি, কিন্তু এই মুহূর্তে তুমি গ্যাস নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পার। তোমাকে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।
(এ সময় মা আসবেন।)
মা: কী রে, কী হয়েছে? এত ছি: ছি: করছিলি কেন?
লাইজু: কী সব ময়লা আবর্জনা গল্প!
মা: গল্প পরে শুনবো। তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ র্ক, তোর বাবা খেতে বসবে। খোকাও বসবে।

আবহ সংগীত
৪র্থ অংশ
(ঈদের দিন। সময় সকাল ৭টা। সাড়ে আটটায় ঈদের নামায। তখনও ঘুম থেকে কেউ ওঠেনি। বাবা ঘর থেকে বের হয়ে আঙিনায় দাঁড়ালেন। সব ঘরের দরজা বন্ধ। সবার ঘুম ভাঙাবার বুদ্ধি আঁটলেন। প্রতি বছর যেটা করে থাকেন। প্রথমে বিদ্যুতের মেইন সুইচ অফ করবেন। তারপর স্টীলের থালা বাজাতে শুরু করবেন।)
(থালা-বাসন বাজানোর শব্দ হবে।)
রেহানা: (ঘুম জড়ানো কণ্ঠে) নিশ্চয়ই বাবার কাজ।
মা: (বাবকে) তুমি ঘণ্টা বাজাচ্ছো কেন?
বাবা: ঘণ্টা না, থালা।
মা: ওই হলো।
বাবা: তোমার ছেলেদের ডাকো, সাতটা পার হয়ে গেছে।
মা: খোকা উঠ্, রন্জু, শাহজাহান…
(সবাই ঘর থেকে বের হয়ে আসবে।)
রন্জু: ডাকাডাকি করছো কেন?
বাবা: ডাকবে না? ক’টা বাজে দেখেছিস? তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।
লাইজু: ছেলেরা নামায পড়তে যাবে, আমাদের ঘুম ভাঙার দরকার ছিলো?
শাহজাহান: আপনেরা নাক ডেকে ঘুমাবেন, তাই না?
রন্জু: কেউ ঘুমাবে, কেউ ঘুমাবে না, তা হবেনা, তা হবেনা।
শাহজাহান: বাবা তুমি ঠিক কাজটাই করেছো।
সুমাইয়া: আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। আজ ঈদ।
লাইজু: কিন্তু তুই যে ঈদ কার্ড কিনতে পারিস নি!
সুমাইয়া: কী করবো, এখন তো ঈদ কার্ড পাওয়াই যায় না।
রন্জু: সমস্যা কী, এসএমএস দিয়ে দিবি।
মা: এখন কথা বন্ধ র্ক । ছেলেরা রেডি হও।
শাহজাহান: মেয়েরা মাকে রান্নায় সাহায্য করো।
সুমাইয়া: (মুখ ভেংচিয়ে) য়ু…
রেহানা: য়ু – – বলে লাভ নাই। কাজ শেখো। সারাদিনে একটা কাজও করো না।
মা: হয়েছে। শাহজাহান বাথরুমে যা। তাড়াতাড়ি বের হবি।

আবহ সংগীত
৫ম অংশ
রাহাত: বাবা, আমি রেডি।
রন্জু: আমিও রেডি।
বাবা: চল্, তাড়াতাড়ি চল্ । শাহজাহান কোথায় গেলো?
শাহজাহান: ( দূর থেকে) আসছি বাবা।
রেহানা: একটু থামো … এই যে … আতর লাগাও।
বাবা: দে।
মা: একটু সেমাই খেয়ে যাও। নামাযে যাওয়ার আগে মিষ্টি মুখ করতে হয়।
বাবা: দাও, দেরী করছো কেন?
(চামচ, পিরিচের শব্দ হবে।)
বাবা: এখন চল্ ।
মা: মন্জু, তাড়াতাড়ি জায়নামাজগুলো এনে দে।
সুমাইয়া: আমি আনছি মা। … এই নাও বাবা।
মা: শাহজাহানের হাতে দে।
শাহজাহান: আমার কাছে দে।
লাইজু: একটু দাঁড়াও।
রাহাত: আবার কী হলো?
লাইজু: ছবি তুলবো। পাশাপাশি দাঁড়াও।
বাবা: দেরি হয়ে যাচ্ছে!
লাইজু: মাত্র কয়েক সেকেন্ড। পাশাপাশি দাঁড়াও। হ্যা হ্যা, ঠিক আছে… স্মাইল প্লিজ…
(ছবি তোলার ক্লিক শব্দ হবে। মোবাইল ফোনে যে শব্দটা হয়।)
আবহ সংগীত

সমাপ্ত
—///—
রাজা সহিদুল আসলাম
বাংলাদেশ। ফোন: ০১৭৪০ ৮৪০০৯৯।
Mail- rajaaslam64@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here