বাংলাদেশের গল্প। নিমখুন। ইতি ইব্রাহিম

0
520

নিমখুন

ইতি ইব্রাহিম

সেদিন ক্লাস অসমাপ্ত রেখে প্রিয় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আর কিছু না বলে বেরিয়ে গেল ইতিহাসের প্রভাষক। পাঠ প্রক্ষেপণীয় জলচৌকি থেকে দরজা অভিমুখে। ডান পা বাড়ালে রেললাইন আবিষ্কার করে। এমন অলঘ সে রেললাইন যে, নেই লোকচক্ষুর লজ্জা। চোখের আলোয় হু হু হু পাথার। আতপক্লান্ত চিতর ভাসে আকাশলীনা চোখে। পরিধি যোজন দূরত্বে- লোকালয়। বৃত্তের কেন্দ্রে ট্রেনের প্রহরাকাক্সক্ষায় প্রভাষক। হোক না সে ট্রেন যে ট্রেন বাসি কিংবা টাটকা – টোটকা।
তোমাদের নিম্নগামী ৯ টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে হে? তামাসার প্রশ্ন পুনর্ভবার-পানির প্রবাহ মাছরঙ যার। কূলে আদিবাসি নরনারী উচ্চ ফলনশীল ধানগাছের অবাঞ্ছিত ছিঁড়ছে। আগলি আদিবাসি সহবাসির গায়ে হাত মেরে করছে হাসাহাসি। টঁইটঁই দুফুরত মানসিটার কা- দ্যাখোহ বটে, এ্যাল নাইনত বড্ডি না থুই রাখিছে ঠ্যাং বটে।
নিম্নগামী চালকদ্বয় কিংর্কতব্যবিমূঢ়। ইতস্তত জানালার কাচ সরায়ে মাথাদ্বয় বাইরে বাড়িয়ে পাগলের ঠ্যাং নয় আত্মঘাতীর প্রাণ বাঁচাতে প্রাণপণে ঝুলছে। বাঁদুড় ঝোলা। ট্রেনের বাঁশি ধরে। ৭৫ নং মিক্সড ডাবল ডাউন গড়িয়ে পড়ছে গতিবেগ ১৪৪ ধারা। লাইনের ধারে বহলা বিধবার রাকাব ছাগপ্রকল্পের মুখে পা থেকে পাতা, নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাস, ছিন্ন হয়ে আছড়ে পড়ে। ভূত দেখে চমকে ওঠে প্রাণি। অলেহ্য আন্দাজ করে আতপক্লান্তের রসনা এগিয়ে না এসে তৃণমূলেই ডুবে থাকে। ঘূর্ণায়মান অথচ উল্টোমুখি ঊর্ধ্বগামী চাকারা; না হয়ে আলোর অভিযাত্রী, নিমখুন করলে জগদ্দল পাথর পাথরসময় ছেড়ে ওঠে দাঁড়ায়। ততক্ষণে ফিরে গেছে মুজুরেরা বাজারে- থলিয়া হাতে, স্বঘোষক ল্যাংড়া লেকচারার নীড়ে।
প্রিয় ক্যাম্পাসে পুনরায় এসে নবীন গবেষক এবং গবেষকদের মাঝে ‘অসৎ সঙ্গে সর্বনাস, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস’ শ্লোগান নিয়ে পাগলপরাণ মেলায় কানপাতলাদের ছত্রখান দেখতে পেলেন ইতিহাসবেত্তা। গবেষকদের গবেষণা কাজকে জনপ্রিয় আখ্যায়িত করলো তারা প্রথমত এবং দ্বিতীয়ত তলে তলে সৎসঙ্গীদের সর্বনাশ করলো। যাদের আত্মার রহস্যে রহস্যের ঐপারে গচ্ছিত চরমসুখ লাভের উন্মত্ততা।

আসলে আমাদের গণিমিয়া স্যার ছিলেন গরীবের সন্তান অথচ মেধাবী। তার ধনকুবেরখ্যাত প্রতিবেশী হাজী মিয়া জামাই খরিদ করেন কাবিননামামূলে। দ্বৈরথের ঐকতান। প্রোপিতামহের পদাঙ্ক পছন্দ। উভয় পক্ষের কোনো কোনো নিকটাত্মীয়ের বিবাহ সম্বন্ধীয় আপত্তি আপাত আপেক্ষিক বলে তাচ্ছিল্য করলে অথবা বিবাহের অব্যবহিত পর সংসার বিষয়ে ক্ষেত্রবিশেষে উভয়ের মতপার্থক্য পাহাড় প্রমাণ হলে শক্তিমানেরা এসে স্লুইসগেট খুলে দেয়। কোরামশূন্য গোল টেবিল বৈঠক বসে। মাথার উপর ঘোরে পল্লীবিদ্যুত। সংসারনেত্রী ফ্লোর নিয়ে বিতর্কের হ্যারিকেন ধরায়। বিরোধী গৃহনেতা ফ্লোর নিয়ে দাঁড়াতেই টুঁটিটা টিপে ধরে স্পিকার। কোনোদিন ঝড়ের তা-বের সাথে তাল মিশিয়ে স্পিকার নম্বরযুক্ত সতর্ক সংকেত বুঝিয়ে দেন। অত:পর তালাক বিলটি কণ্ঠভোটে না জয়যুক্ত হয়েছে না জয়যুক্ত হয়েছে না জয়যুক্ত হয়েছে বলে স্পিকার হাতুড়ি হাঁকান। গেজেড প্রকাশিত হয়: লোকলীলা দুর্নীতির কাঁদায় ডুবন্ত যেখানে সেখানে উভয়ে উভয়ের স্বভাবগত দোষগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে না। সকলের কাচের ঘরে সহবাস যেখানে সেখানে পরস্পর পরস্পরের দিকে পাটকেল না নিক্ষেপই নিরাপদ। নিজে কাচের ঘরে বসবাস করে অন্যের কাচের ঘরে বাণ নিক্ষেপ বেসামরিক কূলকর্ম।
বৃক্ষপ্রেমী প্রভাষক; যার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিমগ্ন কলহে, কলেজ সেরে ফিরেছেন। উদলা উত্তাল দুপুর। চুয়াত্তর। ফিরে আগে শৌচাগার দখল করেছেন। পথিমধ্যে রিকশাঅলার ভয়েসে গহীন আকালের সংবাদ শুনছেন। শাওয়ার স্রোতে সবকিছু ভাসিয়ে ডিসের খাবার সাবাড় করে বেডে পড়েছেন। ধপাস। ইতোপূর্বের ডাইনিং টেবিল যেন শাশুড়ি শাসন। সে অবসন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণ- ভাঁতঘুম। রুটিন কাজ। সে পাকাঘুমে মই দিল নাবালক রাজনের অনাহারি মা। ধড়পড়িয়ার বিছানায় বিলোড়ন তোলে মন্বন্তর চুয়াত্তর এবং ইউক্যালিপ্টাস নার্সারি। চাঁদ সুলতানা জ্যোস্না এক চোখা অনুবীক্ষণের সাথে তার দু’চোখের তাল মেলাতে বামডান বামডান করতে করতে এবং একচোখার উপর পরাবলম্বন আধিক্যে তার দু’চোখভরা যোগ বিয়োগের দৃষ্টি বৈভব। অনুসূয়ার যে চোখে দূরদর্শনের যোগ চিহ্ন সে কর্ণিয়ায় শুকরের প্রতিবিম্ব অথচ বিয়োগ চিহ্নে রাজন মা, নারী রুপন্তী। একাগ্রতায় নিমগ্ন। অনাহারি শিশু ঘরে। পাতাল ফুঁড়ে বের করে আনছে খনিজসম্পদ। মাটি খুঁড়ছে; খুঁজছে বুড়া কচুর মুড়া। মায়ের আত্মায় আত্মজাত আহাজারি।
কাকবন্ধ্যার চিৎকার। অন্তরে ইউক্যঅলিপ্টাস বেবিদের ভবিষ্যত ভাবনা। পুত্র ছুটে আসে আগে। কামেইল যায়েদ পরে। হারামজাদা, মইছিলু নাকিরে? দৌড়া-দৌড়া ঐ শুয়োয়ের বাচ্চাটা গাছের চারালা তামান উপড়েই শেষ করলি, রাত্রে সাঁতাল পাড়ার শুকরগুলা শেষ কইছে, যেও এনা বাঁচিছেলো এখন ওঁয় শেষ করলি, উদ্ভিদবিদ্যায় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি বললেন, পিটা মাগিটাক পিটা। সুপ্রিয় পাঠক, বিশ্ব নারী দিবসের সেমিনারে মধ্যমণি আকর্ষণখ্যাত এক নারীর গালে অন্য সাধারণ নারীদের প্রতি বিষোদগার। নেত্রীর নির্দেশে কর্মী হা-রে-রে-রে দেয় দৌঁড়। ভৌঁ দৌঁড়। শুকরের অপছন্দের খনিজসম্পদ শাড়ির আঁচলে আগলে পালিয়ে যায় জননী। যেন পাকিসেনা ঝাঁপিয়ে পড়ার পূর্বে বিপন্ন বাঙালি ১৯৭১।
মন্বন্তর কী মা? প্রশ্ন শিশু বিপ্লবের।
আমি উদ্ভিদবিদ্যা গুণি, বললেন ম্যাডাম, যেন ক্লাসে ছাত্র, কোনো ইতিহাস জানতে চেয়ো না কারণ আমি ইতিহাসের ছাত্রী নই।
আসলে ইতিহাসের পাতায় বহুরুপীর নবরুপীর খোলনলচে পাল্টানোর অপচেষ্টার তিলতিল কারসাজি ও তার রসায়ন রহস্য জানা হলে তিলকে তাল হয়, তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে …
ওসব গল্প, গণিমিয়া স্যারের মনের উপর যতটা না জোর ছিল তারচেয়ে জোর কম ছিল পায়ে, তাই স্যার প্রথমে মনটাই বিচ্ছিন্ন করবেন বলে মনস্থির করলেও, শেষ পর্যন্ত পারেননি।
অধিক সন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হবার উপক্রম প্রায়। তখন সকলের কৌতুহল এক ললিতলবঙ্গলতিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার নাম লেখা। বাগানের পশ্চিম বাড়ির বাসিন্দা। বোটানি ম্যাডামের অহংকার অলংকার। প্রতিবেশি দৃষ্টিতে ঢং প্রতিবেশি সৃষ্টিতে রং। লেখা তার লোটন নিয়ে খেলছে। বলল, ঘটনাটা তেমন কিছুই নয়, সম্ভবত তাদের দুনম্বর বিবাহ বার্ষিকীর দিনে – আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে যাবার তাড়াহুড়োয় মর্মসহচরির হাতে স্বামী জুতা জোড়া আগ বাড়িয়ে চেয়েছিল। মাতৃকা বিপ্লব বিড়ম্বনায় বহুব্রীহি তখনো। একে তো নাচুনি বুড়ি তার উপর পড়লো ঢোলে বাড়ি। দশকথার বাণ মারল। বাণ বিঁধল দশরথের প্রাণে। তাই স্যার জুতাজোড়া অপ্রয়োজনীয় করে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ নিলেন। সহপাঠির বর্ণিত আবেগে ভৌত তকমা লাগিয়ে ক্যাম্পাসে তর্কবাগীসখ্যাত দলিল মেহবুব বন্ধুদের ভিন্নজগত নিয়ে গেল। ভিন্নজগত পৌঁছে বলল, গুজবে কান দিও না, আসলে স্যারের মধুমেহ ছিল আর ম্যাডামের শখ ছিল অমাবশ্যার, একবার হলো কী কৃষ্ণপক্ষে ম্যাডামের বাগানে বেড়াতে গিয়ে ফুলের কাঁটা বিঁধল স্যারের পায়ে, ঘায়ে পায়ে পঁচন ধরল, তাই স্যার পাতা ছেঁটে ফেলল, বোকাগণ, নইলে আস্ত মানুষটাকেই ছেঁটে ফেলতে হতো যে (?)

সেদিনের অসম্পূর্ণ লেকচার সম্পূর্ণ করবার কথা বললে ছাত্ররা ফিরে এলো। নিজ নিজ আসনে বসল পুনরায়। বিধুন্তুদ এসে দাঁড়ালেন। দৃঢ় পদক্ষেপ। দাঁড়ালেন পাঠ প্রক্ষেপণীয় জলচৌকির পিঠে। শান্ত সৌম্য সাবলীল ভঙ্গিমা। আজ শোনালেন জীবন্ত কিংবদন্তির কথা। তিনি শোনালেন ঔপনিবেশিক কালে মন্বন্তরের ইতিহাস আসলে নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষ মারার অনৈতিক কথা, শায়েস্তা খানামলের ১ টাকায় ১৬ মণ ধানের গল্প। সে ১টি টাকা আমজনতার হাতে না থাকার সরল সমীকরণ কষে বললেন, সেই সময়ের ১ টাকার মালিক যারা তারা হাতি, ‘হাতি মরলেও লাখ টাকা বাঁচলেও লাখ টাকা’। জানালেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মন্বন্তর গ্যালারী প্রত্যক্ষ করবার আহবান। পৌণ:পুনিক। সকলের প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিউরন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের মত থামিয়ে বললেন, তোমরা সাতচল্লিশে দেখেছো যে, দুর্ভিক্ষের শহরে ডাস্টবিনগুলোতে উপচেপড়া পলান্নের এঁটো কিংবা হাড়ের টুকরো কিংবা সালাতের অপাঙকতেয় নিয়ে কাক কুকুর এবং হাড্ডিসার মানুষের বিবাদ। তোমরা হৃন্ময় পরম্পরা, এই বলে তিনি ট্রাফিক পুলিশের মতই ইশারায় রাস্তায় চলবার ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, তোমরা কী ভেবেছো কখনো? মন্বন্তর কবলিত দেশে ডাস্টবিনগুলোতে উচ্ছিষ্ট উপচে কোত্থেকে পড়লো? নিশ্চয়ই সপ্তাসমান থেকে পড়েনি। কারণ ইতোপূর্বে সপ্তাসমান থেকে ওহী পড়েছে, এঁটো খাবার পড়েনি কখনো।
ক্লাসে পিন পতন নীরবতা দ্রবীভূত হলে তিনি প্রশ্নবাণে জারিত করলেন সেই সমস্ত ছাত্রদের মধ্যে যারা কর্ণধারসম্ভবা। যাদের গভীর সৃজনশীল মনের ভ্রƒণ ও তার বিকাশের স্বক্ষমতা রয়েছে। যে দেশের মাটিতে একটি বীজ পুঁতে রাখলেই গাছ হয় অর্থাৎ যে দেশের মাটি স্বত:স্ফূর্ত বীজতলা সে দেশে মানুষ না খেয়ে মরে ভাবতে বিব্রত হই। অভাব নয় রাজনৈতিক সহিষ্ণনুতার অভাব, কৌশলগত দুর্নীতিবাজ আমলা এবং ব্যবসায়িমহলের জননিপীড়ন আমাদের জাতীয় জীবনে অশেষ দুঃখ বয়ে আনে। ৮০ টাকায় ১ কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে যখন তখন কালো টাকা সাদা করার গাছপাথর নিয়ে ব্যস্ত সরকার। তাই যে কোন মন্বন্তরের প্রকৃত ইতিহাস নিরীহ নিপীড়িত মানুষ খুন করে খুনের সে রঙে আলতা মেখে ধন্বন্তরির রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ রাজনীতিক প্রকল্প। কোনো কোনো দুর্ভিক্ষে হায়াতোত্তীর্ণ কিছু মানুষ মরেছে, মৃত্যু এক অনিবার্য বাস্তবতা। এরকম গ্যারান্টিযুক্ত স্বাভাবিক মরণের খবরের আশায় ঘাপটি মেরে থাকা দীর্ঘসূত্রিরা বর্ণ চোরার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে অস্বাভাবিক মৃত্যুকে স্বাভাবিক এবং গ্যারান্টিযুক্ত স্বাভাবিক মৃত্যুকে অস্বাভাবিকতায় ধামাচাপা দিয়ে নন্নড়িয়ার হাতে প্লাকার্ড এবং পুঁজি গুঁজে দেশে প্রতিবাদের পূর্ব পরিকল্পিত তা-ব ছিটিয়ে দেয়। অনাহারজনিত মৃত্যু যা আধুনিক ইতিহাসে বিরল এই লোকপ্রবাদটি তখন উত্তাল জনসমুদ্রে স্থান পায় না আর। সে স্থানে জনসমুদ্রের মন বেদখল করে রেখেছে দেশব্যাপী উস্কানো পরিকল্পিত লীলাময়। তখন সরকারি দলের মুখপাত্র অথবা সরকারি আমলা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বদলে ব্যানারে ফেস্টুনে আবেগাপ্লুত রঙিন শব্দ লাগিয়ে আমজনতাকে ভজানোর অপচেষ্টায় মিডিয়ায় উপস্থিত বক্তৃতা দিয়েছে ডুমুরের ফুল। দিয়ে থেকেছে নির্লিপ্ত, যুগে যুগে। তিনি শোনালেন যুগের বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শক্তির অনাচারে বিপর্যস্ত বিলুন্ঠিত মানবতার কথা। চেয়ে দেখ, বাগদাদ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ছাত্রদের বিদ্বিষ্ট বিশ্বপরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি ফেরানোর আহ্বান জানালেন। চেয়ে দেখ, সুদূর দোজলায় নতুন কালের একজোড়া বাগদাদি ডাকু মুছে ফেললো তৃতীয় বিশ্বের সগৌরব ইতিহাস-সুমেরু মানুষের অর্জনের ইতিহাস – স্বৈরাচার উৎখাতের জিকির ঝাণ্ড তুলে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুরের অমর সাধক ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ যাদুঘর পোঁড়ানো হলো আগুনে – যাত্রীভাড়া বিতর্ক বাহানা।

প্রিয় বৎসগণ, আসলে ক্ষমতালোভীলা দম্ভের ধ্বজা ওড়াতে নিরন্তর ইতিহাসে সৃষ্টির ইতিহাস তথা মানুষের ইতিহাস মুছে ফেলার কাজটি প্রকল্প হাতে নিয়ে করে আসছে। প্রিয় পরম্পরা, শিক্ষামঞ্চ থেকে বললেন বিধুন্তুত, শিকারীরা যুগে যুগে মধ্যবিত্তমানসিক মেনিয়ার হাতে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র গল্প লিখিয়ে নিয়েছে বলে শিকার মহিমান্বিত ছিল এতদিন। বহুদিন। আজ কোনো ব্যাধ নয়, কর্ণধারসম্ভবার মগ্নচৈতন্যেশিস দিয়ে তিনি বললেন, আজ তীরবিদ্ধ ষাঁড় লিখছে শিকারের ইতিহাস – আকালের গাঁথা।
আমার দেশ রূপসী বাংলা আজ
আচাভুয়া আকালের মরণ ছোবলে নীলকণ্ঠ
লাল সবুজের ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে আসুন
একটু দাঁড়ান বিপন্ন মানুষের পাশে
কোনো প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে আর নয়। আপনার
পাশেই রয়েছে অযুত হাহাকার।
যিনি ভাই-ভগ্নি-বন্ধু প্রতিবেশি আপনার
সামর্থ্যমত সহায়তা করুন বিপন্নকে
পাতের খাবার ভাগাভাগি করে
বাঁচুন স্বয়ং মানুষ বাঁচান।

মানব মুক্তির দর্শনই ধর্ম।

গল্পটি ‘চালচিত্র’ ২০১৭ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত। আরও গল্প পড়তে ভিজিট করুন www.chalchitro.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here