বাংলাদেশের গল্প। জিয়াউদ্দীন শিহাব-এর একজোড়া গল্প।

0
65

জিয়াউদ্দীন শিহাব-এর একজোড়া গল্প

কাঠুরিয়ার গল্প

এই যে পথ ডান দিক দিয়ে চলে গেছে কাঠুরিয়ার বাড়ি অব্দি। পথ কাঠুরিয়ার বাড়ি পর্যন্ত গেছে বলেই এ পথ রোম পর্যন্ত যেতে পারেনি। তো অতীব দরিদ্র এই কাঠুরিয়া তার কুড়াল সমেত সন্ধ্যে ধরা জঙ্গলের সামনে দাঁড়ায়। চিত্রার্পিত জঙ্গল। এখানে কোথাও কোন বৃক্ষ নেই। আর এখানেই তাকে দাঁড়াতে হবে কেননা এ সেই কাঠুরিয়া নয় যার কুঠার নদীতে পড়ে গিয়েছিল আর যা টেনেও তোলেনি কোন জলদেবী। এ তো সেই কাঠুরে যে তার বয়স্কা কন্যার বিবাহজনিত কারণে সদা চিন্তিত থাকে ও বলিরেখা কুঁচকে তাকায়। সন্ধ্যে ধরা চিত্রার্পিত জঙ্গলের সামনে দাঁড়ানো এই কাঠুরিয়া আজ সারাদিন ধরে উপার্জন করেছে একটা সুদীর্ঘ দিন যা বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যাতেই খরচা হয়ে যাবে। হাড়িগুলো শুদ্ধ উপোস থাকবে আজ কাঠুরিয়ার সংসার। আর তার মেয়ে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকবে দরোজায়। যদিও দরোজা বলতে সেখানে কিছু থাকবেনা। তবুও তার এই অপেক্ষা কয়েকটা রুটি সংস্থানের চেয়ে দীর্ঘও হবে না।
হাভাতে এই কাঠুরিয়া যদি আরবের নবীর দরজায় তার কম্বল নিয়ে যেতে পারতো তাহলে তার দুঃখের কিছু কিনারা হত। কিন্তু যেহেতু তার পথ রোম অব্দি যায় না সুতরাং তার পথ আরব উপদ্বীপ অব্দিও যায়না। দুঃখ তার ঘোচে না।

ঢাকা শহর
`এই মগ্ন জলাশয় থেকে প্রাসাদ গড়ে উঠুক’
আর লাল ইটের শরীর নিয়ে প্রাসাদ গজিয়ে ওঠে। গড়ে ওঠে ঘের দেয়াল, ইস্পাতের কপাট। আর জ্যান্ত দুই সিংহ দরোজার উপর থিতু হয়ে বসে।
একটা ভারী বাহন ঘরঘর শব্দ তুলে চলে যায়। পৌনঃপৌনিক তার এই চলে যাওয়া। আর তার চাকার নীচ থেকে ফিনকি দিয়ে সুড়কি ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ আলো ঝলমল করে উঠলো প্রতিটি কানায় কানায়। এরই ফাঁকে কিছুটা অন্ধকার চাপা পড়ে বড় রাস্তার মোড়ে। যেখানে দাঁড়িয়ে যে কোন ধরনের পথিক শুনতে পায় অ্যালসেশিয়ান কুকুরের তীব্র চিৎকার। এর সাথে আরো কিছু চিৎকার শুনতে পাওয়া যায় শেষ বাড়িটার পরে।
একদল মানুষ বাহারী পোশাক গায়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে প্রাসাদে। এরা পরস্পর অভিহিত, সম্পর্কিত।
এভাবেই আমি অন্যের কাছে সমর্পিত। এভাবেই বিকৃত। এজন্যই আমরা খাওয়া, পরা, চলাফেরার নিত্যকার অভ্যাসগুলো পালন করি। বাঁচি।
‘প্রাসাদ তলিয়ে যাও’
কিন্তু সে তলিয়ে যায় না।
গল্প দু’টি ‘চালচিত্রে’ প্রকাশিত।
====////====

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here