নীলফামারী জেলার ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়

0
802

লিখন তারিকুল আলম

ব্রিটিশ আমলে নীলচাষকে কেন্দ্র করে যে জেলার নামকরণ করা হয়, সেই নীলফামারীতেও এক সময় ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। তেমনিভাবে এই অঞ্চলে অনেক পুণ্যাত্মার আগমন ঘটে। তাঁদের অনেকেই যেমন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন অপরদিকে তাঁরা ধর্ম প্রচার বিশেষ করে ইসলাম র্ধম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবেই এই অঞ্চল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও অসম্প্রদায়িক ধ্যান ধারণার ‏েক্ষত্র হিসেবে সুপরিচিত। এই জেলায় হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ তাঁদের স্ব স্ব ধর্ম মর্যাদার সাথে পালন করতেন, বর্তমানে তা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত এ সকল আধ্যাত্মিক পুরুষেরা ধর্মকর্ম পালন ও প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা গড়ে তুলে ভক্তদের নিয়ে ইবাদত বন্দেগী করতেন। সেই সকল স্থাপনা যথা মসজিদ, মন্দির, গীর্জা কালের স¦াক্ষি হয়ে আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই সকল পুণ্যাত্মার অনেকে এই জেলাতেই পরলোক গমন করেন। তাঁরা যে স্থানে মৃত্যবরণ করেছেন তাঁদের সমাধিস্থলকে ঘিরে বিভিন্ন মাজার গড়ে উঠেছে। এই সকল মাজার আজো এই অঞ্চলের মানুষের মনে বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ।

নীলফামারী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

চিনি মসজিদ । ইসলামবাগ, সৈয়দপুর।

চিনি মসজিদ । সৈয়দপুর । নীলফামারী।
একাদশ শতকে মুসলিম শাসনের সময় স্থাপত্য বিদ্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। সৈয়দপুরের কেন্দ্রীয় কাচ মসজিদ বা চিনি মসজিদ এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। সৈয়দপুরের কয়া গোলাহাট অঞ্চলে কোন মসজিদ না থাকায় উক্ত এলাকার বাসিন্দা ‘হাজী বক্কর আলী ও হাজী মখ্খু’-এর নেতৃত্বে একটি মসজিদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে এলাকাবাসী তাতে সম্মতি জানান। প্রথমে খড়ের পরবর্তীতে টিনের এবং তারও পরে মসজিদটি পাকা করা হয়। এলাবাসীর নিকট থেকে সংগৃহীত মুঠো চাল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে মসজিদের দালান তৈরি করা হয়। এছাড়া এলাকাবাসীর অনেকেই তাধের চাকরির পুরো এক মাসের বেতন মসজিদের উন্নয়নে দান করেন। প্রতিদিন ১০ আনা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ‘শুঙ্খ’ এক হিন্দু মিস্ত্রী মসজিদটি নির্মাণ করেন। এলাকাবাসী নিজেরাই মিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এলাকার মহিলাগণ ঢেঁকি দিয়ে শুরকী করে। সেই শুরকী ও চুন মিশিয়ে এর গাঁথুনী দেয়া হয়। এক বছরের মধ্যে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মসজিদটি সাজাতে ২৮৩টি মার্বেল পাথরের সাথে ২৫ টন চিনা মাটির রং-বেরংয়ের প্লেটের টুকরা ব্যবহার করা হয়। দৃশ্যত এই মসজিদটির ২৭টি মিনার বিদ্যমান থাকলেও এখনো ৫টির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এর মূল ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় পরবর্তীতে বর্ধিত অংশটি পাকিস্তান আমলে নির্মিত হয়। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৯৯৯৯ রুপী ১০ আনা। মো: মখতুল ও নবী বকস এই মসজিদটির মূল নকশাকারী বলে জানা যায়। চিনামাটির টুকরা দিয়ে এর দেয়াল সজ্জিত হয় বলে এর নামকরণ করা হয় ‘চিনিমসজিদ’। মৌলবী আব্দুল্লাহ্ মসজিদটির প্রথম ইমাম এবং জুম্মান মিয়া এর প্রথম মুয়াজ্জিন। আধুনিক স্থাপত্য বিদ্যা ও নির্মাণ কৌশলের এক অনবদ্য নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি সৈয়দপুর তথা নীলফামারী তথা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের ভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছে।

জোড়দরগা জামে মসজিদ

নীলফামারীর প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গী মোড় থেকে প্রায় ২ কি:মি: দক্ষিণে নীলফামারী শহরের প্রবেশ মুখে জোড়দরগা মসজিদটির অবস্থান। আনুমানিক প্রায় ৩০০শত বছর আগে ব্রিটিশ শাসনামলে দুইজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক কামেল ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন। পরবর্তীতে এই দুইজন কামেল ব্যক্তি উক্ত স্থানে পরলোক গমন করেন। এখনো উক্ত পীর কামেল ব্যক্তিদ্বয়ের দরগা বা মাজার শরীফ উল্লেখিত মসজিদের পাশে বিদ্যমান। এই কামেল ব্যক্তিদ্বয়ের দরগাকে কেন্দ্র করে উক্ত অঞ্চলের মানুষ এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। দুইজন ব্যক্তির দরগা বা মাজার আছে বলেই এর নাম রাখা হয়েছে জোড়দরগা মসজিদ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত এই দুই কামেল ব্যক্তির নাম জানা জায়নি। ১৯৪০ সালে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী নীলফামারী-সৈয়দপুর মহা সড়কের ৩৬৯১ নম্বর দাগে ৪ শতক জমির উপর মাজার দু’টির অবস্থান কিন্তু এই জমির ঠিক কোন্ জায়গায় মাজার দু’টি রয়েছে তা স্থানীয় কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি বা জানা জায়নি। তবে ১৯৭৩ সালে সেকেন্দার আলী মস্তান নামে এক ব্যক্তি এখানে আশ্রয় নেন এবং মাজার শনাক্ত করে একটি উঁচু মাটির ঢিবি (কবর সাদৃশ্য) তৈরি করেন। ঢিবির উপরে একটি টিনের চালা নির্মাণ করেন। এটাই বর্তমানে মাজার হিসাবে বর্তমানে পরিচিত। এই দরগাহ বা মাজার দু’টিকে ঘিরে অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। প্রতি বছর ১৩ ফালগুন এখানে ওরছ অনুষ্ঠিত হয়। এখনও এখানে দূর দুরান্ত থেকে বিশ্বাসী মানুষেরা মানত করে সিন্নি দেয়।

আঙ্গারপাড়া সাত গম্বুজ জামে মসজিদ । কুন্দুপুকুর। নীলফামারী সদর।

একাদ্বশ শতাব্দীর শেষ ভাগে হযরত মহমুদুল্লাহ (রা:) তুর্কীস্থানী সুদূর তুর্কীস্থান থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে নীলফামারীতে আগমন করেন এরই এক পর্যায়ে তিনি নীলফামারী কুন্দুপুকুরের আঙ্গারপাড়া এলাকায় ধর্ম প্রচারের কাজ শুরু করেন। এই ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সাত গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি আজো আঙ্গারপাড়ায় কালের স্বাক্ষী হিসেবে দাড়িঁয়ে আছে যা আঙ্গারপাড়া তথা নীলফামারীর ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

এই মহান কামেল ব্যক্তি উক্ত অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, মসজিদটির পাশে পরপর দুটি কবর রয়েছে। একটি তাঁর নিজের এবং অপরটি তাঁর স্ত্রীর কবর বলে স্থানীয় মানুষের ধারণা।

পাগলাপীর মাজার ও মসজিদ । দারোয়ানী, নীলফামারী।

মুঘল শাসনামলের প্রথমদিকে সৈয়দ আব্দুল রহিম শাহ ফকির নামে একজন বুজুর্গ কামেল ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে নীলফামারীতে আগমন করেন। পরবর্তীতে তিনি পাগলাপীর নামে খ্যাত হন। ধারণা করা হয় তিনি ধর্ম প্রচারে নানাবিধ বাধা বিপত্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হন। অত:পর দারোয়ানী অঞ্চলে  তিনি ধর্ম প্রচার করেন ও সফলকাম হন। এখানে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং স্থানীয় মুসলমানগণ তাঁকে এখানে সমাধীস্থ করেন। এখনো প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে পাগলাপীরের মাজারে ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এই ওরসকে কেন্দ্র করে এ স্থানে একটি বিশাল মেলা বসে। দেশ বিদেশের অনেক মানুষ এই ওরসে আসেন এবং ইবাদত বন্দেগী করেন। মাজারের পাশে একটি মসজিদ নির্মিত হয় যা পাগলাপীর মাজার মসজিদ নামে পরিচিত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে আজো পাগলাপীর মাজার ও মসজিদ ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে আছে।

শাহ কলন্দর (রা:) । সোনারায়, ডোমার।

পীর ও কামেল শাহ কলন্দর (রা:) আধ্যাত্মিক শক্তি ও ইসলামের মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অত্র অঞ্চলের বহু লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন্। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা যায়নি। উত্তরাঞ্চলে প্রথম পর্যায়ের ইসলাম প্রচারকদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন গ্রন্থে তার ইসলাম প্রচার ও কেরামতি সম্পর্কে জানা যায়। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার এলাকায় হযরত শাহ কলন্দর (রা:) মাজার বিদ্যমান।

হযরত ঘোড়ে শাহ (রা:)-এর মাজার । কাশিরাম বেলপুকুর (সিপাইগঞ্জ), সৈয়দপুর, নীলফামারী।

ব্রিটিশ শাসনামলে হযরত ঘোড়ে শাহ (রা:) সিপাইগঞ্জ নদীর ধারে আস্তানা গড়ে তুলেন। তিনি ভা-ারী মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। কথিত আছে যে, তিনি নদীতে গোসল করতে নেমে তাঁর নাড়ি ভুঁড়ি বের করে নিজ হাতে পরিস্কার করতেন এবং সন্ধ্যায় তিনি আধ্যাত্মিক গানের আসর বসাতেন। তাঁর এই আধ্যাত্মিক কার্যকলাপ দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁর প্রতি অনুরক্ত হন এবং তাদের শ্রদ্ধাভক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাঁর ভক্তরা দলে দলে আস্তানায় আসতে শুরু করে। হঠাৎ তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। ভক্তরা সেখানে মাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ভক্তরা মাজারে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তাঁর নাম স্বরণ করে গান বাজনার মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী এবং সিন্নী পরিবেশন করেন। প্রতি বছর বাংলা সনের মাঘ মাসের ১০ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়।

শাহ মাকদুম(ঢেলাপির বাবা) মাজার । ঢেলাপীর সৈয়দপুর।

ব্রিটিশ শাসন আমলে শাহ মাকদুম তাঁর যোগ্য শিষ্যকে নিয়ে ভারত থেকে বর্তমানে সৈয়দপুরের প্রায় তিন কি:মি: উত্তরে ঢেলাপির নামক স্থানে আশ্রয় নেন। সেই সময় জায়গাটি ছিল বন জঙ্গলে ভরা। সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যসহ অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে মসগুল থাকতেন। তাঁর আধ্যাত্মিকতা দেখে এলাকার মানুষ তাঁর ভক্ত হয়ে পড়ে। তাঁর আস্তানার পাশে একটি বড় গর্ত ছিল। গর্ত ভরাট করার জন্য তিনি নিজেই মাটির ঢেলা কুড়িয়ে গর্তে নিক্ষেপ করতেন। সে কারণে তিনি ঢেলাপীর নামে আখ্যায়ীত হন। তাঁকে অনুসরণ করে তাঁর ভক্তরাও ঐ গর্তে ইট, পাথর বা মাটির ঢেলা নিক্ষেপ করতেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঐ এলাকা দিয়ে গেলে সেখানে মাটির ঢেলা নিক্ষেপ করলে যাত্রা শুভ হয়। উক্ত স্থানে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ভক্তরা সেখানে তাঁর মাজার তৈরি করেন। প্রতি বছর বাংলা সনের বৈশাখ মাসের ১০ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই ঢেলাপীরের মাজারকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল বাজার বা হাট গড়ে ওঠে। এখনো প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার ঢেলাপীরের হাট বসে।

বুড়াপীর মাজার শরীফ । কাশিরাম বেলপুকুর (দোয়ানী), সৈয়দপুর, নীলফামারী।

আজ থেকে ৩০০ বছর পূর্বে এক বৃদ্ধ বুজূর্গ দরবেশ দোয়ানী এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁর আসল নাম না জানায় স্থানীয় জনগণ তাঁকে বুড়াপীড় নামে চিনতো। এখানে একটি বিশাল বটগাছ ছিল। তার নিচে তিনি অধিকাংশ সময়ে ইবাদত বন্দেগী করতেন। ঐ এলাকার মানুষ তাঁকে পীর হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করলে এলাকার ভক্তরা একটি মাজার তৈরি করেন। কথিত আছে যে, পবিত্র শরীরে এসে বটগাছের নিচে এসে মানত করলে তার মনোবাসনা পূর্ণ হতো। ভক্তরা এখনো এসে মানত করে। সেখানে প্রতি বছর ওরস অনুষ্ঠিত হয়।

পীরে কামেল পীর মীর মহীউদ্দিন চিশতি (র:)  । কুন্দুপুকুর, নীলফামারী

মুসলিম শাসনের প্রাক্কালে পীরে কামেল পীর মীর মহীউদ্দিন চিশতি (র:) সৌদী আরব থেকে নীলফামারী কুন্দুপুকুর নামক স্থানে আশ্রয় নেন। ঐ এলাকায় কুন্দু নামে একজন স্বৈরাচারী রাজা ছিলেন। পীর মীর মহীউদ্দিন চিশতি (র:) তাকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করেন। সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কয়েকশত বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হলদীবাড়ি থেকে একজন কামেল হুজুর কুন্দুপুকুরে এসে কবর জীয়ারত করেন এবং এলাকার মানুষকে ডেকে পীরে কামেল পীর মীর মহীউদ্দিন চিশতি (র:) সম্পর্কে বলেন এবং একটি মাজার স্থাপন করতে বলেন। তাঁর কথায় মাজার তৈরি করা হয়। ভক্তরা প্রতি দিন এসে মান্নত করে এবং কবর জিয়ারত করেন। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যথলিক র্গীজা । সৈয়দপুর, নীলফামারী

১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কর্মরত ব্রিটিশ ও এ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের উপাসনার জন্য রেলওয়ে কারখানার পাশে ইউরোপিয় স্থাপত্যকলায় একটি গীর্জা নির্মাণ করেন। এর আগে ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে রেলওয়ের ৩ বিঘা জমির উপর একটি পুরোহিত ভবন নির্মাণ করা হয়। ফাদার ফ্রানসিস রোক্কা নামে এক খ্রিস্টিয় পুরোহিত খ্রিস্টভক্তদের ধর্মীয় কর্মকা- পরিচালনা করতেন। রেলওয়ে কারকানার ১১শত একর জমির দক্ষিণ অংশে ৪০ শতাংশ জমির উপর এই র্গীজাটি অবস্থিত। এটি উত্তরাঞ্চলের সর্বপ্রথম ও প্রাচীন র্গীজা। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভাগের পর অনেক ইংরেজ এবং এ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এখানে থেকে যান। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে সিস্টার অব চ্যারিটি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সিস্টার এই র্গীজা ও পুরোহিত ভবনে আসেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরি সুবাদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন সৈয়দপুরে এসে বসবাস করতেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এখানে বাইবেল পাঠসহ ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের উপাসনা নিয়মিত পরিচালনা করা হত। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে অমল গোমেজ, মাইকেল গোমেজ, নিকোলাস গোমেজসহ বেশ কয়েকজন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী পাক সেনাদের হাতে প্রহৃত হন। এছাড়াও কয়েকজন খ্রিস্টান নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস অনেক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এই র্গীজা ও সিস্টারদের কনভেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে স্থানীয় খ্রিস্টধর্মাবলম্বী এ র্গীজায় ধর্মকর্ম পালন করেন। লাল ইটের তৈরি দৃষ্টিনন্দন র্গীজাটি কালের স্বাক্ষী হিসেবে অত্র অঞ্চলের স্থাপত্যের ভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছে।

(সংগ্রহ : মোঃ তারিকুল আলম ও ফিরোজ মাহমুদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here