গল্প। পাখিরা। আউয়াল আহমদ। Birds – Short Story of Bangladesh by Aowal Ahmad

0
415

Birds – Short Story of Bangladesh by Awal Ahmad
গল্প

পাখিরা

আউয়াল আহমদ

প্রসঙ্গ তার ভবিষ্যতের পথে ইউটার্ন নেবেই, আমার অনাগত সন্তানের জননীকে যা-ই বলিনা কেন, ইদানিং। সহিদুল ভাই’র পরামর্শ কিংবা উপদেশ মেনে এই সু/অসময়ে ভাই-বোনের-মতো-থাকা রপ্ত করার কোন চেষ্টা করতে হয়নি, আদতেই, পেশাগত কারণে দূরে থাকার কল্যাণে বা অকল্যাণে, মূলতঃ বাধ্যবাধকতায়।
শান্তনীড়’র ডি-১/ডি সরকারি ফ্ল্যাট বাসাটি তিনটি প্রাণীর অনায়াস রাত্রিযাপনের সেনেটরিয়াম, এখন। মুখ্য শয়নকক্ষটিতে গভীর রাত অব্দি, কখনোবা সারারাত জেগে থাকে একটা অবিরাম শব্দের মেড ইন পাকিস্তান সিলিং ফ্যান, একটা দেয়াল ঘড়ি, একটা ২র্র্র্১র্ আংশিক রঙিন টেলিভিশন, আর এদের সবার জেগে থাকার একমাত্র সাক্ষী, আমার অনাগত সন্তানের আপাতঃ দায়-দায়িত্বহীন, স্বঘোষিত পিতা। ডাবডালের ছায়া-ঢাকা উত্তরের বারান্দায়, কাপড় শুকানোর তারে কখনো পাশাপাশি কখনো অনতিদূরে বসে থাকে, নাকি ঘুমায় সারারাত-দু’টি দোয়েল পাখি। এই তিনজন, ইঁদুর-টিকটিকি-মশা আর মাকড়সাগুলোকে বাদ দিলে, প্রসঙ্গের অনিবার্য অনুষঙ্গ। মুঠোফোনের বাহুল্য কথোপকথন পাখির দিকে মোচড় নিলে ও বলে, খুব তো রোজ রোজ পাখির হাগু পরিস্কার কর, আমার বাবুর হাগুমুতুঅলা কাপড়-চোপড় ধুয়ে দেবে তো! “শিশুর মুতের ঘ্রাণে মুগ্ধ কাঁথা ভিজুক বিজনে/একটি সংসার যদি সুখি হয়, আমিও তো সুখি!”, আমি ‘কল্যাণ মাধুরী’ উদ্ধৃত করি। একটা মশা ততক্ষণে মাকড়সার জালে আটকা পড়ে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকলে আমার ব্যালান্স ফুরিয়ে যায়, আর ১০০ মিটার স্প্রিট শুরু হয়ে যায় একটা মাকড়সা আর দু’টো টিকটিকির মধ্যে, মিলি সেকেন্ডের ব্যবধানে ।
দৃশ্যতঃ মানুষ ব্যতিত জগতের সকল প্রাণীই বহুগামী, বলেছিল কেউ, সম্ভ¢বতঃ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, যখন বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজে পাচ্ছিল না, আর ক্রমশঃ উজাড় হতেছিল তাহার ঊর্ধ্বকেশদাম। বেসিনে, হাত ধোয়ার সুগন্ধি লাইফবয় সাবান দিয়ে আমার অদ্বিতীয় মুজো জোড়া ধুয়ে বারান্দায় নাড়তে গিয়েই বিপত্তিটা ঘটেছিল, প্রথমদিন সন্ধ্যায়। পাখা ঝাপটানোর শব্দ, হঠাৎ, তারে নাড়া পড়তেই । নকিয়া ১১০০’র টর্চ জ্বেলে আবিষ্কার করি একটা দোয়েল, ইতস্ততঃ বসে আছে, তার ও পেরেক ঠোকা দেয়ালের সংযোগস্থলে। একটা না, দু’টো, পরদিন সন্ধ্যায় আবিষ্কৃত হয়, পৌনঃপুনিক প্রয়োজনে বারান্দায় যাওয়ার পর। খবরটা জানাতেই, শালা পরের বাড়িতে থাকে আবার বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছে, আমার বউ বেফাঁস মন্তব্য করে, আমার গায়ে লাগে। রোজ সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফিরে আমরা বারান্দায় যাওয়ার ছুতা খুঁজি, বিবাহিত জীবনের চার বছর পর ডাবডালের আড়ালে আবডালে ছিন্ন ভিন্ন চাঁদ দেখতে নয়, কখনো মুখোমুখি কখনো পাশাপাশি দু’টি প্রাণীর নৈর্ব্যক্তিক প্রেম দেখতে, মূলতঃ। কিন্তু দু’দিন যেতে না যেতেই আমরা মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের শরণাপন্ন হই, আমাদের বারান্দা-প্রীতি মরে যেতে থাকে। কোন এক লোড শেডিং এর রাতে, মোমের আবছায়া আলোয়, সাত-সাতটি দোয়েল পাখি আবিষ্কার করে এই পাখিপালক দম্পতি। এবারে ওদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে, স্বভাবতই, আমার বউ। খলিলের কথা মনে পড়ে আমার, খুব, একমাত্র বউকে ঢাকায় রেখে সে কোথায় আদিতমারীতে পড়ে আছে, বেচারা! তবু গোফরান সাহেব যখনই নিচতলায় বউ বাচ্চা নিয়ে তার মানবেতর জীবন যাপনের প্রসঙ্গ পাড়েন, আমার আশু বদলির সম্ভাবনা কিংবা তদবিরের অগ্রগতির কথা জানতে চাওয়ার অজুহাতে, আমি পাখিগুলোকে বিরক্ত বা বিতাড়িত না করার অগ্রিম শর্ত জুড়ে দেই।
নিঃসঙ্গ কানাকুয়ো পাখিটার কথাও, যাকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম দক্ষিণের জানালা ধরা জারুল গাছটার নিচে, আমরা সহজে ভুলি না। টু মেগা পিকসেল মুঠোফোন ক্যামেরায় জুম করে ছবি তুলতে হয়েছিল, পাখিটার নাম জানতে, পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে ‘বাংলাদেশের পাখি’ নামক বইয়ের ছবির সাথে মিলিয়ে। কিন্তু বারান্দার গ্রিলে, টেলিফোনের পেঁচানো তারে বাসা বেঁধে, ডিমে তা দিতে দিতে লালপাছা বুলবুলিটার হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়ার কোন কারণ আমরা খুঁজে পাইনা, আজও।
পাখিমেনিয়ায় আক্রান্ত হই, ক্রমশঃ, আমরা, অ্যানথ্রাক্সের মতোই, অনেকটা। গোয়ালে, গবাদি পশুদের সাথে যে তড়কাকে লালন-পালন করে এসেছি, চিরকাল, অ্যানথ্রাক্স নামে সে-ই সংক্রমিত হয়েছে, হচ্ছে, আজ, আমাদের দেহে যতটা না, মনে ততধিক। কিন্তু পাখিভাইকে কেন আমরা পাখিভাই বলে ডাকি, সে প্রশ্ন সংক্রমিত হয়নি, কোনদিন। এটা ওর পারিবারিক বা ডাকনাম নয়, আমরা নিশ্চিত, যদিও।
এই গল্প নাকি বলা হয়ে গেছে, কম করে হলেও দশ থেকে বারোবার, আমার বন্ধুরা বলে। কেনইবা ওরা একই গল্প এতোবার শুনলো, প্রশ্নটা সেখানেও। তবু বলি, আজ সতেরই অক্টোবর, কাকতালীয় হলেও সত্যি, আজ বিজয়া দশমী, আমরা বলি বিসর্জন। বিজয়া আর বিসর্জন কি করে এক হয়, আর সতের অক্টোবরকেই কেন বিসর্জনের দিন হতে হবে, আমরা ভেবে ভেবে ক্লান্ত হই। বিসর্জন দেয়া হবে দেবিকে, তারপর অপেক্ষা, পুনর্বার অকালবোধনের। কাল বা অকাল কোন বোধন না থাকলেও আমি পাখিকে দেবির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি, দেবিকেও বড় নিষ্ঠুর মনে হয়, তখন। কেননা এই গল্পের যিনি কথক, প্রধান চরিত্রও হয়তোবা, আমরা তাকে ফসু বলে ডাকতাম, বন্ধুরা ফয়সালকে ফসু ডাকতেই পারে, একদা ‘পাখি’ নাম ধারণ করে। কালক্রমে, ফয়সালও সুরভিকে ‘পাখি’ ডাকে, আমরা জেনে যাই। আমরা বিষয়ান্তরিত হই, এই জানাজানির ব্যাপারটা মুখরোচক গল্পে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই, সতেরই অক্টোবরের অকালবোধনে নয়, অকালবর্ষণে। দুই হাজার এক সালের সতেরই অক্টোবর বিকেল বেলায় কেন অমন অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছিল, আজো ভাবায়, কারণে বা অকারণ, ফয়সাল ওরফে ফসুকে। আর আমরা ওকে পক্ষী, পংখি বলে ভেঙাতে ভুলে যেতে থাকি, সচেতনভাবেই। তবে গল্প এটা নয়, গল্প অন্য এক সতের অক্টোবরের। তিন, চার বা দুই হাজার পাঁচ সালের। আমাদের মধ্যে যারা ‘দ্যাখো দ্যাখো কী সুন্দর একটা পাখি’ কিংবা ‘অনার্স ফাইনাল শেষে তুমি একটা পার্ট টাইম জব পেলেই…’ জাতীয় রিউইন্ড-ফরোয়ার্ড গল্প শুনে অভ্যস্ত ছিল ফয়সাল ওরফে ফসু ওরফে পাখির গল্পে তারা ধৈর্য হারাত না, হারালেও প্রকাশ পেত না শোনার ভঙ্গিতে। সতের দশ দুই হাজার চার, অনুমানের মধ্যপন্থা অবলম্বনে আমরা ধরে নিতে পারি, সুরভি ওরফে পাখির ৩য় প্রতিশ্রুতিময় উড়াল দিবসে, মধ্যরাতে, মহসিন হল বর্ধিত ভবনের ‘জিপসি ইন’ নামক রুমের নন্-বর্ডার বুলেটের মুঠোফোনে একটা ভিওআইপি কল আসে। আর ‘স্বনির্বাসন’-এর বাসিন্দা ফয়সালের ঘুম ভেঙে যায়, পরিচিত রিংটোন শুনে অথবা প্রহরের হিসেব কষে, বুলেট জেগে ওঠার আগেই। বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আর উপকূলবর্তী এলাকায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের আবহাওয়া বার্তা নাকি সতের অক্টোবরের অনিবার্যতাকে সত্য প্রমাণিত করতে দিনভর বৃষ্টি হয়েছিল সেদিন, তার রেশ রয়ে গেছে তখনো। মুঠোফোনের সংলাপ অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতকে মাড়াতে গিয়ে বিরহ বেদনার আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকলে ফয়সাল টের পায়, ওর মাথা, বগল ও চোখ ভিজে গেছে, ভিন্ন ভিন্ন বৃষ্টিতে।
ময়না পাগলির কথা, আমরা, যারা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের মেইন গেটের পাশে, রাজ্জাক মামুর চায়ের দোকানে দিনভর, সন্ধ্যাভর, এমনকি দোকানের খুঁটির সাথে শিকলবাঁধা বেঞ্চিটায় বসে রাতভর আড্ডা দিতাম, ভুলে যেতে পারতাম, যদি না অসংখ্যবার শোনা এই গল্পের সাথে সংশ্লেষ থাকত, যদি না বিরামহীন প্রলাপ আর খিস্তি-খেউরের মাঝে হঠাৎ রেশমি চুড়ির শব্দের মত ওর খিলখিল হেসে ওঠা আমাদের আড্ডালোচনার প্রসঙ্গ হয়ে উঠত। কেননা, দিনের পর দিন মেয়েদের হলের সামনে বসে আড্ডা দিতে দিতে, হা-পিত্যেশ করে করে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছিলাম, কিছু হলো না-হচ্ছে না ভেবে ভেবে। বৈচিত্র্যের সন্ধানে তৎপর ছিল আমাদের চোখ, মন ও আড্ডা। ময়নার হাসিতে আমরা বৈচিত্র্য নাকি বৈচিত্ত্য খুঁজেছিলাম, পেয়েও ছিলাম হয়তোবা, অপার্থিব কিছু। কিন্তু কেন, কোথা থেকে এই জটা চুল, অর্ধ উলঙ্গ, মধ্যবয়সী পাগলিটা ঠিক মৈত্রী হলের গেটের সামনে এসে আস্তানা গেড়েছিল, আর কেনইবা এক পাও নড়তো না ল্যাম্পপোস্টটার নিচ থেকে, আমরা কেউ অনুসন্ধান করিনি, যদিও চা বানাতে বানাতে, কখনো ক্ল্যাসিক কখনো অ্যামেচার মিউজিকের তালে তালে রাজ্জাক মামুরা গল্প বানিয়েছিল প্রচুর। ময়না পাগলির ঠিক পাশে, ফুটপাতে, বেলা উঠবার আগেই ছালা বিছিয়ে বসতো, একত্রিশটা তেলচিটে এয়ারমেইল খাম আর রেখচিত্রসহ পাঞ্জার ছবি সম্বলিত একটা চটি বই নিয়ে টিয়াপাখিঅলা, ভবিষ্যত-দ্রষ্টা, হাজারীবাগ-কামরাঙ্গীর চর থেকে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যাওয়া গার্মেন্টস কর্মীদের ভাগ্য গণনা করতো সে, দু’তিন টাকার বিনিময়ে। মাঝে মাঝেই আধ-খাওয়া বিড়ি চেয়ে নিয়ে, তার কাছ থেকে, ময়না, পরম সুখে টান দিতে দিতে ঝনঝন শব্দে হেসে উঠত, অকস্মাৎ।
শিশিরবৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে, হাঁটতে হাঁটতে রাজ্জাক মামুর দোকানের কাছে এসে, দুই কান দিয়ে দু’টি নারীকণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে যেন, হঠাৎ মনে হয় ফয়সালের । এবং সত্যিই, বা হাত দিয়ে মুঠোফোন ঠেসে ধরা কানে “পাখি, এ্যাই পাখি! কথা বোলছো না ক্যানো?” আর ডান কান দিয়ে অবিরাম “যাহ্, এই যাহ্! কী করস? হি হি হি। যা ব্যাডা, শয়তান। ইস্স্স্স্!”। স্বরভঙ্গি ও প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন দু’টি নারীকন্ঠের উদ্বেগ ও আকুতি ফয়সালের হাঁটা থামিয়ে দেয়, হেলুসিনেসন হয় এবং হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পেয়ে একদৌড়ে গার্ড রুমে এসে আশ্রয় নেয়, ও। বাম কানে তখনো “কী হোলো? কথা বোলছো না ক্যানো? পাখি, এ্যাই পাখি! কী হোলো তোমার?”, ক্রমাগত। ফয়সাল কোনমতে “পাখি, এখন রাখছি। তুমি আধঘন্টা পর আবার ফোন কোরো, ক্যামোন?” বলেই রেড বাটনে চাপ দেয়, ওপাশের জনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। কএক মিনিট হাঁপিয়ে এবং বুঝে ওঠা-না ওঠার সময় নিয়ে, গার্ডরুমের ওয়াচিং উইনডোতে চোখ রাখে, ফয়সাল, অতঃপর। ল্যাম্পপোস্টটার নিচে দৃষ্টি ছুঁড়ে দেয়, শব্দদূরত্বের অনুমানে, দিক ও নিশানা আন্দাজ করে। একটা ভাঙাচোরা রিকশা দেখা যায়, ম্রিয়মান সোডিয়াম আলোয়, ময়না পাগলির আস্তানার কাছাকাছি। ঠিক তখনই “যা, যাহ্ ছেমরা। হারামজাদা, কুত্তা, খানকির পোলা। ইস্স্স্স। ইস্রে। কী করস, অই কী করস। যাহ্!”, ডান কানের নারীকণ্ঠ বেজে ওঠে, আবার, শব্দগুলো প্রতিধ্বনিত হয় ফুটপাত ঘেঁষা কবরস্থানের দেয়ালে দেয়ালে। ল্যাম্পপোস্টের ছায়ায়, আধো অন্ধকারে, কবরস্থানের দেয়ালে চার হাত, চার পা ও দুই মাথা অলা একটা ছায়ামূর্তির উপর্যুপরি আস্ফালন চোখে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ, জনগুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য চিঠিপত্রের ভেতর, অনভ্যস্ত হাতে কম্পোজ করা একটা চিঠি পাওয়া যায়, শেষ বিকেলের ডাকফাইলে। “পেশ করুন” লিখে অনুস্বাক্ষর দিতে গিয়ে, কএক মুহূর্তের জন্য কলম থেমে যায়, বিষয়ে চোখ পড়তেই, শিক্ষানবিস কর্মকর্তার। পুরো চিঠি পড়তে শুরু করেন, বিষয় বৈচিত্র্যের কৌতুহলে নাকি পত্রে বর্ণিত তারিখ ও ঘটনার সাথে নিজের জীবনের কোথাও কোন মিল খুঁজে পেয়ে, বোঝা যায় না ঠিক।

আল্লাহ সর্ব শক্তিমান
গরম মুক্তি পাখি দরবার
প্রতিষ্ঠাতা -বিল্লাল হোসেন মজুমদার
স্থাপিত-১৭/১০/২০০১ ইং
পাখির দরগা সংযোগ পশ্চিম বনগাঁও
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

প্রতি,
আন্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক চট্রগ্রাম ও সদস্য সচিব বিভাগীয় পরিবহন দরপত্র কমিটি (খাদ্য) চট্রগ্রাম।

বিষয়ঃ মোঃ শহীদুল হক শহীদ ও তাহার ছোট ভাই জনাব রশীদুল হক সহ বাংলাদেশের যে কোন স্থানে বসবাস গৃহ থেকে উচ্ছেদ ও গাছ তলায় বন্দী প্রসঙ্গে।

জনাব,
উপরুক্ত বিষয়ের আলোকে জানানো যাইতেছে যে, সুনামগঞ্জ জেলাধীন হোসেনপুর খাদ্য গুদামের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল হক শহীদের দ্বিতীয় কন্যা মোছাঃ- সুরভী আক্তার ওরফে ময়নার সাথে ১২/০২/২০০০ ইং সালে কুদরতী ভাবে সর্ম্পক হয়। সেই সর্ম্পকের মূলে মোঃ শহীদুল হককে তাৎক্ষনিক বিস্তারিত জানানো হয়। মোঃ শহীদুল হকের সাথে সমঝোতার প্রশ্নে তাহার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমে জানানো হয় যে, হোসেনপুর খাদ্যগুদাম হইতে তাঁহার পরিবার বর্গ জন্মস্থানে স্থানান্তর পূর্বক স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় প্রথম কন্যার ফরজ কাজটি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই দ্বিতীয় কন্যা আমাকে বুঝাইয়া দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি জন্মস্থান দেশের বাড়ীতে পরিবার বর্গ স্থানান্তর না করিয়া কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাড়ীতে থাকেন। পরবর্তীতে আল মদিনা হোল্ডিং ২৮৯ কাপ্তানবাজার (জজ কোর্টের দক্ষিণ পার্শ্বে) বেগম শহীদুলের নামে বাড়ি নির্মান করেন। ঐ বাড়ীতে বর্তমানে বসবাস করেন।
উক্ত বাড়ীটি সম্পুর্ণ অবৈধ অর্থে উপার্জিত হিসাবে গায়েবীভাবে যেকোন সময় ভেঙ্গে যাইবে। বাড়িটি রক্ষা করার মতো কোন পথ নাই। কুদরতী সর্ম্পকের মূলে আমার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জানমাল সহ আসমানী ও জমিনী এবং গায়েবী ভাবে চতুর দিকে কাটা তাঁরের বেড়ায় আটক হইয়া যায়। কিন্তু বিবাদী পক্ষ ও বনগাঁও গ্রামবাসীর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক ও বর্তমান সহ দীর্ঘ সাত বৎসর আমাকে কাটা তাঁরের বেড়া হইতে মুক্ত করার জন্য কুনোরুপ উদ্যোগ গ্রহন করা হয় নাই। উপরুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে বনগাঁও আধ্যাওিক বা বিল্লালের পূণ্যভূমি থেকে সঠিক পথের অনুসারী হিসেবে ৪(চার)তরিকার ওলি-আউলিয়ার সর্দার হিসেবে-
১(ক) মোঃ শহীদুল হক (শহীদ) (খ) বেগম শহীদুল হক (শহীদ) (গ) মোঃ রশীদুল হক (সাবেক অধ্যক্ষ)
ঘ) বেগম রশীদুল হক সহ ৪ (চার) জন লোক মূল দোষের দোষী হিসেবে বাংলাদেশের যে কোন স্থানে
বসবাসের বাসগৃহ থেকে উচ্ছেদ করা হইল। তৎসঙ্গে দ্বিতীয় কন্যা মোছাঃ- সুরভী আক্তার ওরফে ময়নার সহ (কালনাগীনি অগ্নিকন্যা) মোট ৫(পাঁচ) জন লোককে গাছতলায় নজর বন্দী করা হইল। অবশিষ্ট পুত্র কন্যাসহ নিম্নে স্বাক্ষরকারীর অধীনে নিরাপত্তার সুবিধার্থে আত্মসমর্পনের সুযোগ নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হইল।

বিবাদী পক্ষের ও বনগাঁও গ্রামবাসীর সম্পদ কেড়ে নেওয়ার বিবরণ নিম্নে দেওয়া হইলঃ-
১। (ক) অযোগ্য শিক্ষাবিদ হিসাবে সাবেক অধ্যক্ষ জনাব রশীদুল হকের শিক্ষকতা পদ আজীবন শুন্য ও
বনগাঁও গ্রাম থেকে গোটা পরিবার এবং ৬৮৩ নং মানিকনগর দক্ষিন মৌজা থেকে উচ্ছেদ।
(খ) বেগম শহীদুলের জজকোর্ট সংলগ্ন বাসভবন মানুষ বসবাসের অযোগ্য হিসাবে জরাজীর্ণ অবস্থায়
আজীবন খালি থাকবে। হোল্ডিং নং ২৮৯ আল মদিনা কাপ্তানবাজার (জজ কোর্টের দক্ষিণ
পার্শ্বে)
(গ) হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক বনাম মোঃ হেলালুর রহমান মজুমদার ৬৮৩ নং মানিকনগর দক্ষিন
মৌজার সম্পত্তি ফেরত যোগ্য। জ্ঞান হারা ও অন্ধলোকের সম্পত্তি দলিল করা অবৈধ।

২। দরগাভবন এতিম খানা লিল্লাহ বোর্ডিং ও আল্লাহর ওলিদের দরবার হিসাবে বাজেয়াপ্ত, বাদী
বিবাধী কেউও দরগাভবনে বসবাস করিতে পারিবেন না।

৩। বনগাঁও আধ্যাত্তিক গ্রাম হিসাবে রপান্তর বা বিল্লালের পূণ্যভূমি হিসাবে ঘোষণা।

৪। (ক) মোঃ শহীদুল হক (শহীদ) (খ) বেগম শহীদুল হক (শহীদ) (গ) মোঃ রশীদুল হক (সাবেক
অধ্যক্ষ) (ঘ) বেগম রশীদুল হক সহ গাছতলায় নজরবন্দী।
৫। পাগল বেশে দ্বিতীয় কন্যা মোছাঃ- সুরভী আক্তার ওরফে ময়নার মুক্তি ও গাছতলায় নজরবন্দী এবং
গরম মুক্তি পাখির দরবার নামে নামকরন।
৬। বনগাঁও গ্রাম বা পূণ্যভূমি থেকে কলেজ অধ্যক্ষের পদ/ভাইস চেয়ারম্যান পদ/ ইউপি চেয়ারম্যান পদ
আরকে উচ্চ বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদ অস্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা
হইল।
উপরন্ত কুটুম্বপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বনগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর
আলম হইতে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাইবে। এ ছাড়া বিবাধী পক্ষের সকল প্রকার আন্দোলন মাটি/ পানি ও বাতাসের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হইল।
আমাকে কুটুম্বপুর গ্রামের কুকুরে চিনলো। কিন্তু বনগাঁও গ্রামের মানুষে চিনলো না। দুটি পাখির
একটি ভূমি পাখির দরগার ভূমি। পাখির দরগা পরিচালনা কমিটির নিকট বিবাধী পক্ষের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তির ব্যয়ভার স্থায়ীভাবে ন্যাস্ত করা হইল।
নিবেদক ইতি-
মেসার্স বিল্লাল এন্টারপ্রাইজ
তাং-১৭/১০/২০০৭ইং
প্রাক্তন তালিকাভূক্তি ঠিকাদার
১৯৯৭-৯৮ ও ১৯৯৮-৯৯
অনুলিপিঃ
১। প্রধান শিক্ষক, বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
২। প্রধান শিক্ষক, আরকে উচ্চ বিদ্যালয়।
৩। চেয়ারম্যান ১০ নং মানিকনগর দক্ষিন ইউপি।
৪। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, বনগাঁও ডিগ্রী কলেজ।
৫। উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাজীগঞ্জ।
৬। মাননীয় চেয়ারম্যান, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
৭। জেলা শিক্ষা অফিসার, চাঁদপুর।
৮। জেলা প্রশাসক, সকল, বাংলাদেশ।

আমার মায়ের প্রথম যে সন্তানটি, যুদ্ধের বছর, জন্মের তিনমাস পূর্ণ না হতেই মারা গিয়েছিল, আব্বা তার নাম দিয়েছিলেন কোকিল, পাখির নামেই।
—///—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here