গল্প। জ্ঞাতনামাদের গল্প। জিয়াউদ্দীন শিহাব

0
512

অজ্ঞাতনামাদের গল্প

জিয়াউদ্দীন শিহাব
১.
একটা কাকের শরীর নিয়ে শুকনো গাছের ডালে বসে আছি। রাত দিন বসে থাকি। শুকনো গাছটা বাড়ির পেছনটায় নির্বিবাদে দাঁড়ানো। সহসা এদিকটায় আসেনা কেউ। কখনো নির্জনতায় কখনো শঙ্কায় চিতকার করে উঠি। আর বাসার রুগ্ণ মহিলাটি ছোট একটা খড়ি হাতে তাড়াতে এগিয়ে আসেআর তার নাদান শিশুটিও হাত ছুঁড়ে হৈ হৈ করে ওঠে, যেন বরং সে থেকে যেতে বলে। তার ধূলোময় শরীর আমাকে অদ্ভ’ত এক তুপ্তি এনে দেয়।
একদিন সন্ধ্যায় কিছু ছায়া এসে আমাকে এক পেড়ো বাড়ির কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের হাতে ছিল চকচকে এক ফালি রাস্তা যে দিক ধরে আমার রক্ত বয়ে যেতে পেরেছিল। যন্ত্রণার বদলে আমাকে গ্রাস করেছিল এক কোমল নির্ভারতা। নিজেকে পলকা পালকের মতো উড়ে যাবার এক অনুভ’তি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এক সঙ্গীতময় স্বপ্নের দেশে। তারপর এল বিস্মৃতি। কত দিন কত কাল বিস্মৃতির মধ্যে তলিয়ে ছিলাম মনে নেই। হঠাত সম্বিত পেতেই সেই স্মৃতি জাগানিয়া পলকা অনুভ’তিতে নিজেকে আচ্ছন্ন দেখতে পেলাম। ইচ্ছে হলো উড়ে যাবার। আর তখনই এক ধাবমান কাকের শরীরে আশ্রয় নিয়ে উড়ে এলাম বাড়িটার পেছন দিকের গাছটাত্।ে
কাকের শরীরেই সংস্থান হলো আমার। তার আত্মা আর চোখ এক ঐন্দ্রজালিক মোহচ্ছন্নতায় আক্রান্ত করে ফেললাম। আর কাকের ভেতরে যে নিজস্ব কাক বেড়ে উঠেছিল গৃহস্তের এটোঁ ঘেটে ঘেটে তাকে আচ্ছন্নতা দিয়ে আড়াল করলাম। সে জানতেও পারলো না তার আত্মায় এখন আমার বসতি। তার হৃদপি- এখন আমার চনমনে আকুতিতে পরিপূর্ণ।
আমার দারুণ বিরোধ ওই বিষণœমুখ মহিলার সাথে। তার পরাজিত চোখ যেন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। সে ভাবে আর তাকায় যেন কোন অশুভ ছায়া আমি ছড়িয়ে দিচ্ছি সারা উঠোনময়। সে ভাবে, আমি যেন আমি নয়, কোন দুদর্শার চলচ্চিত্র। যেন তারা সমস্ত বেদনার এক প্রতিপক্ষ। যেন আমার শরীর কাকের শরীরর নয়, একদলা ছায়াদেরনাছোড় এক পি-। ছায়া! ভাবতেই দপদপ করে ওঠে হৃদপি-
সন্ধ্যায় সব পাখি ঘরে ফেরে। ঘরে ফেরার কোলাহল স্তমিত হলেও আমি গাছটাকে ছেড়ে যাই না। কোথাও যাবার নেই। ঐ শিশুমুখ কি করে যেন আমাকে পিছুটান দিয়ে ধরে রাখে। উড়ে যাবার জন্যও ডানাদের কোন আহ্লাদ আর নেই।
যখন ঘোর সন্ধ্যা নামে, ছায়াদের যত্রতত্র চলাফেরা দেখি,রাত্রির একগুয়েঁ মৌনতা ভেঙ্গে চিতকার করে উঠি। চেনবার চেষ্টা করি এ কাদের ছায়া। কারা এই ছায়াদের ফেলে রেখে গেছে আমার স্বপ্ন আর ঘুম হরনের জন্য। ছায়াদের ফিসফাস শুনি আর প্রতিবাদে ডুকরে উঠি। আমার চিতকারে মাঝরাতের নিস্তবদ্ধতা কাঁচের মতো ভেঙ্গে যায়। শিশুটি ভয়ে আর্তনাদ করেওঠে। আর তার মায়ের গঞ্জনা তীক্ষ্ণ ছোরার মতো চারিদিকে বিদ্ধ হতে থােকে।
এই কাক, কাকের শরীর আর তার আত্মার সংসারে যুক্ত হয়ে থাকে সেই রুগণ মুখ, আপত্য¯েœহহীন শিশুটির বোকা বোকা চোখ। এখান থেকে, দরোজার পাশে ধূলো-ধূসরিতঅযতেœ পড়ে থাকা এক জোড়া জুতো, কার? ঘরের খিড়কি জানালা দিয়ে দেখা যায় বিবর্ণ জামার হাতা দুলছে অসহায় হয়ে, কার? এভাবে আমাকে আর কতদিন দেখে যেতে হবে? কত দিন শুনে যেতে হবে ছায়াদের ফিসফাঁস? কেন এক আশঙ্কার গন্ধ ভোঁ ভোঁ করে ভরিয়ে রাখে রাতের উঠান; কে বলবে?
তো, সন্ধ্যার অন্ধকারেহি হি করে ধেয়ে আসে শীতের হিম প্রবাহ। সেই রুগ্ণ মলিন মুখ, কোলে শিশুটিকে সামলাতে সামলাতেউনুনের ধারে বসে উসকে দিচ্ছে আগুন। আগুনের উসকে ওঠা ক্রোধে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে সেই মলিন মুখ, তাতে কুঁচকে পড়া ত্বক আর অর্থহীন এক দৃষ্টি অসমাপ্তভাবে স্থির হয়ে যাচ্ছে। আবার ঝলক দিয়ে দিয়ে নিথর হয়ে পড়ছেমুখ আর তার পাশর্^বর্তী আগুন। ধীরে ধীরে সব কিছু দ্রবীভ’ত হয়ে যাচ্ছে কাকের তন্দ্রার মতো।
নিভন্ত আগুনের ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলতে সেই মলিন মুখউনুনের মধ্যে ঠেসে ধরলো পরিত্যক্ত সংবাদপত্রের এক টুকরো। এতে নিমিষেই আগুন নতুন ক্রোধে জে¦লে উঠলো। পরম হিং¯্রতায় পুড়িয়ে দিতে থাকলো তা। আর তাতেই স্পষ্ট ভেসে উঠলো, ক্ষণিকের জন্য, একটি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি, কোন এক অজ্ঞাত নামার .ৃৃ..
২.
সামান্য কৌতুহলে, কিংবা একগুয়েঁ এক নিয়মানুবর্তিতার বাইরে আমি বেরিয়ে পড়েছিলাম, সামান্য এক জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে,বড় কোন হামবড়া চিন্তাবিদ না হয়েও, খুব তাচ্ছিল্যভাবে, ঠিক ইদিপাস হয়ে নয়, নিতান্ত কাকতাড়–য়া গোছের, অনেকটা গেয়োঁ গেয়োঁ ভঙ্গিতে, একদম সাদামাটা এক সহজ প্রশ্নের, যখন প্রয়োজন হয়ে পড়ে আবার এড়িয়ে যাওয়ার উপায়ও নেই অথচ কেউ এ যাবত বাতলে দেয়নি, কিন্তু হরহামেশাই দরকার পড়ে, খামাখাই, এমন পরিস্থিতি উতরে যাবার জন্য, তাই
সকলের পরামর্শ ছিল সরকারি এক নিবন্ধন দপ্তরের শরণাপন্ন হওয়ার। সকলে বললেও এ সকল যে কারা, তাদের নিজেদের ঠিকুজিই বা কি তাও জানা যাচ্ছে না। তবুও, এক ক্রমবর্ধমান কাতারের অংশী হয়ে দেখা মেলে কানে চশমা গোঁজানো মৃতবত এক দপ্তরীর, যেন বিভিন্ন কাপড়ের পুঁটলি করে তৈরি করা এক অগোছালো পুতুল। আর মুখস্ত করা এক প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করে বসলো আমার নাম।
সব গাড়ি ছেড়ে যাওয়া এক স্টেশন যখন নিজের ক্লান্তিতে ঘুমাবার আয়োজনে ব্যস্ত, শুন্যে আধশোয়া, সেখানে এসে দাঁড়াই। এখানে উবু হয়ে পড়ে থাকা এক সংবাদপত্রের বুকে মেলে আছে এক অজ্ঞাতনামার মুখ। স্থির, চির নিশ্চল জিজ্ঞাসার চিহ্ন নিয়ে। সংবাদের সুতো ধরে ধরেসর্ন্তপনে এসে পড়ি ভয় জড়ানো মর্গে। দেখি, শায়িত আর ভাবলেশহীন সেই জিজ্ঞাসার চিহ্নসমতে ছিন্ন মু-ের শরীর কোন এক অজ্ঞাতনামার। কে যেন শশব্যস্ত হয়ে বললো, এ লাশ কি আপনার? যেন তাকে এক্ষুণি চলে যেতে হবে, যেন সে এ লাশের চক্করে পড়ে লাশের রক্ষক হয়ে বন্দি হয়ে আছে। এবং যেহেতু, এই লাশের মুখ হুবহু আমার মুখ, তার শরীর ব্যত্যয়হীনভাবে আমারই শরীর তাই শবের রক্ষকের মুক্তির ইসতেহার পঠিত হয়।
শোনা গেল নদীর গভীর জলদেশ থেকে পৃথিবীর বুকে ভেসে উঠেছে কয়েকটা অজ্ঞাতনামার শরীর। শ্যাওলার সাথে ভেসে মুখে তাদের শ্যাওলা জমে আছে। মাছেরা তাদের ঠুকরে ঠুকরে বের করছে পরিচয়। কিন্তু শরীর ভেদ করে পরিচয় নয় বরং বেরিয়ে আসছে আরো অজ্ঞাতনামা হাড়গোড়, রক্তের চিকণ প্রণালী। সবাই বলছে, ওদের প্রতিটি দেহই আমার দেহের অবিকল। আর সুতরাং এতোগুলো দেহের মধ্যে কোনটা কোনটা ঠিক আমি না তা নির্ণয়ের কোন সুযোগ থাকলো না।
ট্রাক ছুটে যাচ্ছে গ্রামপথে কারো তল্পিতল্পাসহ বিষম অসহ বেগে। তার পেছনে ধাবমান ধূলোও ছেঁেড়ে যেতে চাইছে গেয়োঁ পথ। যেন তারা ভুলে যেতে চায় তাদের মাড়িয়ে যাওয়া মেয়েটির কথা। মেয়েটি নিশ্চয় মরেছে কার্তিকে, গলায় এখনো তার দৃশ্যমান সোনালী পাড়ের শাড়ী যেন বুঝিয়ে দেয় পেচিঁয়ে ওঠা ধানের পালার সমাহার। উড়ো ধূলো আর উড়ো কথা প্রচলিত লোককথা ছাপিয়ে ঘোষণা করে আমার নাম ধরে মেয়েটিকে, অজ্ঞাতনামা
এভাবে চলতে চলতে কখন যে ক্লান্তি পেয়ে বসেছিল জানি না। রাজপথের এক কিনারে চায়ের দোকানে বসে পড়েছিলাম। সেখানে, ধেয়ে আসছিল ক্রুদ্ধ শ্লোগান। যেন মুখ থেকে নয়, শ্লোগানেরা এসেছিল অপার কোন জগতের বার্তাবাহকের সাথে সেই মিছিলের পুচ্ছ ধরে। তাদের পায়ের ক্ষিপ্রতায় রাজপথ থরথর কেঁপে উঠছে, পায়ের ধূলোরা যেন বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে চারিপাশে। হঠাৎ শ্লোগান কুণ্ঠিত হয়ে থেমে গেল, তখনও ধূলোরা বিক্ষোভ ছেড়ে নেমে আসেনি পথে শুধু কয়েকটা নিথর দেহ স্থির চিত্রের মতো কালো পিচের উপর লাল হয়ে ফুটে উঠলো। আর যা হয়, সকলেই যা সাব্যস্ত করে, সব কটাকে একত্রে, এবং সে সঙ্গে আমাকেও, যেহেতু তাহাদের মুখ আমারই মুখের মতো অবিকল, অজ্ঞাতনামাদের নামে
এরপর এক অলুক্ষণে সময় এসে হাজির হলো। ভদ্রলোকদের অফিস, অভদ্রদের কারখানা, বাচ্চাদের স্কুল, পাখিদের ওড়াওড়ি, রেডিওর একসুরে গান, বিলবোর্ডে লাস্যময়ীদের অগাধ হাসি স্বত্বেও, সব কিছু চলমান থাকার পরও দিকে দিকে, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার এন্টারকোটিকার মানচিত্রে অজ্ঞাতনামাদের খবরে ভরে যেতে থাকলো। কখনো পরিত্যক্ত বাড়িতে, কখনো প্রকাশ্য রাজপথে ভেদবমি ছড়ানো উৎকট গন্ধ নিয়ে তাদের ভীড় বেড়ে যেতে থাকলো। নিজেকে খুঁজে পেতে পেতে হয়রান হয়ে পড়লাম।
ব্রীজের তলায় পাওয়া যে অজ্ঞাতনামার মুখ, ডমরু বারুদে গ্রাস হয়ে যাওয়া পোড়া মুখ, পরিণত পাটের ক্ষেতে অঙ্কুরিত হবার অপেক্ষায় আধডোবা গলিত শরীর, গোপন ক’পে ঢাকা পড়া বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ, আমার ভঙ্গুর স্বপ্নের হাড়, আমার স্বস্তির খরখরে ত্বক, আমার উল্লাসের আধবোঁজা চোখ, টুপটাপ করে ঝরে পড়া অনেক অজানা অশ্রু কিছুই বাতলে দিতে পারছে না, খোলাসা হয়ে উঠছে না, অজ¯্র তদন্ত কমিটি, কমিটিসমূহের উপকমিটিও ঠাওর করতে পারছে না যদিও এরা সকলে একটা নামের জন্য হন্যে হয়ে আছে, আমিও
অবশেষে,একটা নামের সন্ধানে নেমে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছি। কোথায়?
৩.
আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম এবং খুব সম্ভব ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
অথবা সম্ভবত আমি জেগেই আছি।
কিছুক্ষণ আগে, সম্ভবত, ঝলকে উঠেছিল একগুচ্ছ বারুদের ফুল। ফুলকি দেখেছিলাম? এতো নিকট সময়ের স্মৃতিও কি অসম্ভব বিশ্বাসঘাতকতা করে! আমি তো চলছিলাম রাস্তা দিয়ে জটলার মধ্যে। নাকি কোন স্মরণ সভায় দর্শক হয়ে থিতু মেরে ছিলাম মেন নেই। হয়তো আমার নিজস্ব উঠানে তাকিয়ে ছিলাম মালতিলতার দিকে। কিন্তু কোন মালতিলতা সেখানে বহুদিন ধরেই ছিল না। ছিল নাকি? বারুদের ছন্নছাড়া ধোঁয়ায় সব অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যখন বারুদের ফুল ফুলকি দিয়ে আস্ফালনে ফেটে পড়ছিল, তার শব্দ শুনতে পাইনি, যেমন আমরা পাইনা ফুল ফোটার শব্দ। তখনই, ঠিক তখনই, এক আচ্ছন্নতায় থৈ থৈ করে তলিয়ে যাচ্ছিলাম।
অথচ তখনও আমার ঘুমের সময় হয়ে ওঠেনি। ঘর ফেরতা মানুষের ভীড় ছিল যেখানে মানুষের কোন মুখ ছিল না বরং সেখানে লটকে ছিল ঘরে ফিরে বাচ্চাদের পড়ানোর উৎকণ্ঠা, বাজারের থলে থেকে উপচে পড়া সবজির মুখ, পরদিনের জরুরি সব কর্মকা-ের দীর্ঘ তালিকা
কিন্তু এমন নিস্তব্ধতায় সবিনয় সমর্পনের আগে, অনেক আগেই আমার হাতেও ছিল সান্তাক্লজের যাবতীয় কাজের দায়ভার।
খুব অস্বস্তি হয়েছিল থুবড়ে পড়ে থাকা দেহ থেকে উঠে দাঁড়াতে। এতো নির্ভার! পরিশেষে শরীরটাকে রেখেই উঠে দাঁড়াতে হয়েছিল। চোখ দুটো ছাড়াই তাকাতে হয়েছিল চারিদিকে। যেন দেখতে পাচ্ছিলাম কোন ফুলকি নেই কোথাও, যেন সব কিছু সটান দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেমন কয়েক মুহূর্ত আগেও দাঁিড়য়ে ছিল সেসব।
আর আমার হাতে ন্যস্ত ছিল সান্তাক্লজের যাবতীয় দায়ভার। মায়ের কাছে ফেরার অনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি। স্কুলগামী বাসদের জাগিয়ে তোলার সংকল্প, যেন তা সাত সকালেই কাশতে কাশতে যাত্রা শুরু করতে পারে পাড়ার গলিতে গলিতে। কারখানার নাটবল্টুগুলোকে আরো যুত করেএটেঁ দেয়ার দায়। যেন তা কর্মীদের ফেরার আগেই গর্জন করতে করতে প্রস্তুত হতে পারে। আর ছিল অফিসের মৃত নথিগুলোতে ধূলো ধূসরিত ধাক্কা দেয়ার গুরুভার যেন রাষ্ট্রযন্ত্র ধকধক করে ওঠে আর সকলে জানতে পারে সেটা চলছে।
আমি শরীরটা রেখেই দাঁড়িয়ে ছিলাম কেননা আমার সত্যিই মায়ের কাছে ফেরার পরোয়ানা পেয়েছিলাম, কেননা তখনো আমার ঘরে ফেরা হয়নি আর স্মরণসভার নিদ্রমগ্ন অবশেষ সমাপ্ত হয়নি তখনও। অথবা মালতিলতার বিকলে শুরু হওয়া তখনো ঢ়ের বাকি ছিল।
আমি যখন সেই স্ফ’লিঙ্গের মুখোমুখি হলাম। এখনি যে ফেটে পড়বে উল্লাসে, শব্দ ঝরাবার আগেই যা সকলকে আলিঙ্গন করে ধূলিস্ম্যাৎ করে ফেলবে, এমন একটা মুহূর্তে, তার আগেই, আমি বিচলিত হয়ে উঠলাম। কেননা, যদি এটা স্বপ্নের ঘোর হয় তবে, কিছু ঘটবার আগেই, স্বপ্নটা পাল্টিয়ে ফেলতে হবে আর নতুন এক বানানো স্বপ্নে গড়িয়ে দিতে হবে নিজেকে।
আর যদি আমি জেগেইে থাকি, আছি, যদি এই হয়, তবে ঐ স্ফ’লিঙ্গের ফুলঝরি ছড়িয়ে পড়বার আগেই আমাকে ঘুমিয়ে পড়তে হবে আর তখনি এক স্বপ্নের মধ্যে গড়িয়ে যেতে হবে।
নয়তো, যে দরদালানগুলো, চলমান মানুষের মুখগুলো যা তাদের মুখগুলো ছাড়াই চলমান রয়েছে ফিরতি পথে, যা সটান দাঁড়ানো আছে বলে সকলে বিশ্বাস করে, তা, বারুদে-আগুনে মাখামাখি করে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকার কথা রটে যাবে লোকমুখে, সংবাদপত্রে।

ৃৃ(.. . .. . . . . . . . . . . )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here