কর্মসংস্থান। ভিন্ন পরিবেশে সবজি চাষ।আয়ের ক্ষেত্র হতে পারে।

0
197

কর্মসংস্থান

ভিন্ন পরিবেশে সবজি চাষ।আয়ের ক্ষেত্র হতে পারে।

সবজি চাষ লাভজনক।এরই মধ্যে কৃষি বিজ্ঞানী এবং প্রগতিশীল কৃষকগণ ভিন্ন পরিবেশে সবজি চাষের প্রযুক্তি/পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। যেমন – রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, ক্ষেতের আইলে এবং ছাদে।

রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, ক্ষেতের আইলে সবজি চাষ করতে চাইলে বিশেষ কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। যেমন –

০১. রাস্তার ধারে যে স্থানে রৌদ্র পড়ে অর্থাৎ গাছের ছায়া এড়াতে হবে।

০২. রাস্তার ধারে লাগানোর জন্য এমন সব সবজি নির্বাচন করতে হবে যে সব সবজি গরু ছাগল খায় না বা সহজে নষ্ট করতে না পারে।

০৩. রাস্তার ধারে এমনভাবে সবজি লাগাতে হবে যাতে চলাচলের অসুবিধা না হয়। বা যাতায়াতের কারণে/সময় সবজি নষ্ট না হয়।

০৪. পুকুর পাড়ে লাগানোর জন্য এমন সব সবজি নির্বাচন করতে হবে যেগুলো পুকুরের পাড়ের মাটি আলগা করে দেবে না। বা পরিচর্যার সময় মাটি বেশি খোঁড়াখুড়ি করতে হবেনা।

০৫. পুকুর পাড়ে সমান জায়গায় মিষ্টি কুমড়া, পুঁই, সিম, স্কোয়াশ অন্যান্য সবজি লাগানো যায়।

০৬. পুকুরের কিনার ঘেশে চিকন মাচা তৈরি করে লতা জাতীয় সবজি লাগানো যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে পুকুরে যেন কোনোভাবেই ছায়া না পড়ে।

০৭. ক্ষেতের আইলে সবজি চাষের ব্যপারে আইলের উঁচু নিচু অবস্থা বিবেচনায় রাখতে হবে। আইল চিকন হলে প্রয়োজনীয় চওড়া করে নিতে হবে।

০৮. ক্ষেতের আইলে যে সব সবজি চাষ করা যায় তা হলো – পালং শাক, পুঁই, ডাঁটা, পেঁপে বেগুন, শিম, ঢেড়স, বরবটি, স্কোয়াশ, টমেটো, ঝিঙা, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি।

এসব স্থানে লাগানো সবজির জন্য বিশেষ পরিচর্যার দরকার আছে। যেমন –

০১. সবজি গাছের গোড়া পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

০২. মাটির আদ্রতা বা রস ধরে রাখার জন্য গাছের গোড়ায় খড়কুটো বিছিয়ে দিতে হবে।

০৩. চারা রোপণের পরপরই ছায়া প্রয়োজন হয় তাই ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় যদি বিকালে চারা রোপণ করা যায়।

০৪. এ সব স্থানে সাধারণত পানির অভাব দেখা দেয় এজন্য পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

০৫. আগাছা জন্মালে আগাছা পরিস্কার করতে হবে।

০৬. গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। তবে মাটি বেশি গভীর করা যাবেনা।

০৭. একই জায়গায় বেশি চারা জন্ম নিলে চারার সংখ্যা কমিয়ে দিতে হবে। নির্দষ্ট দূরত্বে চারা রেখে বাকী চারা তুলে ফেলতে হবে।

০৮. সার প্রয়োগ করতে হবে।

০৯. চারা মারা গেলে সেই জায়গায় সেই বয়সী চারা লাগিয়ে দিতে হবে। যদি কোনো চারা দুর্বল হয় তাহলে সেই চারা তুলে ফেলে ভাল চারা লাগিয়ে দিতে হবে১০. গোড়ায় মাটি দরকার হলে বাইরে থেকে মাটি এনে দিতে হবে।

১০. ক্ষতিকর পোকা-মাকড় হলে হাত দিয়ে ধ্বংস করাই ভাল। তাতে যদি কুলিয়ে ওঠা না যায় তবে কৃষি অধিদপ্তরের ব্লগ সুপারভাইজারের পরামর্শক্রমে বালাইনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

এইভাবে অনেক বেকার তাদের কর্মসংস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের অব্যবহৃত জায়গা সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে আয় এবং সবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

সংকলন – রাজা সহিদুল আসলাম।

==========

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here