‘কবিকুঞ্জ’। রাজশাহী। কামরুল বাহার আরিফ

0
995

সংগঠনকথা

কবিতার যাত্রাপথে ‘কবিকুঞ্জ’। রাজশাহী।

কামরুল বাহার আরিফ

ভূমিকা
রাজশাহী বরেন্দ্রভূমির প্রাণকেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত এ শহরে একসময় অভিভক্ত বাংলার বিস্তৃত প্রান্তের মানুষ জ্ঞান আহরণের তেষ্টায় ছুটে এসেছেন। বসবাস করেছেন। শিক্ষা লাভের পাশাপাশি অনেকেই সম্পৃক্ত হয়েছেন শিল্প-সাহিত্য, গবেষণা চর্চায়। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রখ্যাত শিক্ষক পণ্ডিত তেজারির গৃহাশ্রমে ঢাকার বিক্রমপুরের সন্তান মহাদেশের জ্ঞানতাপস শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর শিক্ষা গ্রহণ করেন। এসব কারণে সুপ্রাচীনকাল থেকে ‘পৌণ্ড্রবর্ধন’ তথা বরেন্দ্রম-লকে ‘বসুধাশির’ বা ‘পৃথিবীর শিরোভূষণ’ অভিধায় অভিহিত করা হতো।
বরেন্দ্র অঞ্চলে লিপিবদ্ধ নিদর্শন হিসেবে প্রথম আমরা পেয়ে থাকি মৌর্যযুগের শিলালিপি। এ সময়কালে ভক্তিবাদের প্রসার শুরু হয়। শিক্ষা দীক্ষারও প্রসার ঘটে। প্রতিবাদী নতুন বৌদ্ধ ধর্মচর্চা এ সময়ে ব্যাপকতা লাভ করে। ধর্মচর্চার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও চলে। ব্যেদ্ধ সাধক কবিরা এ সময়ে সাহিত্যচর্চার মধ্যে দিয়েই তাঁদের ধর্মচর্চা। করেছেন। ‘চর্যাপদ’ এর অন্যতম নিদর্শন। সংস্কৃত ভাষার পাশাপাশি গণমানুষের ভাষা (প্রাকৃত) বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ সাধক কবিকুল যে ‘চর্যাপদ’ রচনা করেন তা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদিরূপ। চর্যাপদ কর্তাদের মধ্যে কাহ্নপা ওরফে কানুপা, শবরীপা, লুইপা, সরহপাপ্রমুখ বরেন্দ্র অঞ্চলের অধিবাসী বলে অনেকে মনে করেন।
জাতি হিসেবে বাংলা ও বাঙালি চিরকাল মানব প্রেমিক। মানবতার মহিমাকে এ দেশের আপামর মানুষ অন্তর্গতভাবে ধারণ করে। আমরা মানবতাবাদী হিসেবে প্রকৃতিগতভাবেই এক প্রবল উজ্জ্বল আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী। এই শক্তিই হাজার বছর লালিত হয়েছে ইতিহাসের সকল কালপর্বে। আমাদের সৌভাগ্য যে এই দীর্ঘ ইতিহাসের সকল পর্যায়ে বরেন্দ্রভূমির সন্তানেরা সত্রিয় ছিলেন। মহান সূফি সাধক শাহ মখদুম রূপোশ (রাঃ), সন্ধ্যাকর নন্দী, নরোত্তম দাস ঠাকুর (দত্ত), শুকুর মামুদ, কৃষ্ণেন্দ্র রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, রজনীকান্ত সেন, মীর্জা মোহাম্মদ ইউসফ আলী, কুমুদনাথ দাস, প্রমথনাথ বিশী, ঋত্বিক ঘটক, স্যার যদুনাথ সরকার, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বন্দে আলী মিয়া, ড. মযহারুল ইসলাম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবুবকর সিদ্দিক, বহুভাষাবিদ প্রফেসর মখছুদ হেলালী, , মাদার বক্স, প্রফেসর শামসুজ্জোহা, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, ডক্টর কাজী আব্দুল মান্নান, ড. মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম, ডক্টর সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, ইলা মিত্র, প্রফেসর আলী আনোয়ার, ড. মুখলেসুর রহমান, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম, ড. এ. আর মল্লিক, ড. সালাহউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ আলী আহসান, আতাউর রহমান, প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, প্রফেসর গোলাম সাকলায়েন, ওমর আলী, আসাদুজ্জামান, শাহ আলম চৌধুরী, শেখ আতাউর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল হাফিজ, এস এম আব্দুল লতিফ. খুশবর আলী, হাসান আজিজুল হক, সনৎ কুমার সাহা, জুলফিকার মতিন, ড. আব্দুল জলিল প্রমুখ কবি সাহিত্যিক গবেষকদের পদচারণায় আমাদের বরেন্দ্রভূমি ধন্য হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গণ।


কবিকুঞ্জের প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম
কবিকুঞ্জ আমাদের অতীত ঐতিহ্যের ইতিবাচক দায় থেকে গড়ে ওঠা কবি ও কবিতার সংগঠন। কালের ধারাবাহিকতায় রুহুল আমিন প্রামাণিক, আরিফুল হক কুমার, ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ কামাল, কামরুল বাহার আরিফ, মজিদা আখতার বীথি, আলমগীর মালেক, শামীম হোসেন, শরীফ আহমেদ বিল্টু প্রমুখের উদ্যোগে কবিকুঞ্জের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ ১লা বৈশাখ ১৪১৯। সংগঠনটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন প্রামাণিক এবং সদস্য সচিব আরিফুল হক কুমার সকল কবিদের সম্মতিতে দায়িত্ব পান। বর্তমানে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে রুহুল আমিন প্রামাণিক ও আরিফুল হক কুমার। রাজশাহীর সকল মুক্তমনা প্রগতিশীল চিন্তার কবি ও আবৃত্তি শিল্পীরা এ সংগঠনটির প্রাণ হয়ে কাব্যচর্চায় অবদান রেখে চলেছে। কবিকুঞ্জ জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০১২-তে ‘জীবনানন্দ স্মরণোৎসব’ উদযাপনের মধ্যে দিয়ে সারা দেশের কবি সাহিত্যিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত করে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।
জীবনানন্দ মেলা উপলক্ষে দেশের খ্যাতিমান লেখক ও কবিদের নিয়ে ‘কবিকুঞ্জ’ নামে জীবনানন্দ স্মরণ সংখ্যা প্রকাশ করে যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এছাড়াও এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কবি আসাদ মান্নানকে কবিতায় এবং জীবনানন্দ গবেষণায় শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব সাদিককে ‘কবিকুঞ্জ’ সংবর্ধনা ও পদক প্রদান করা হয়। ১৪ ও ১৫ মার্চ, ২০১৪ দেশে বিদেশের দেড়শতাধিক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় “কবিকুঞ্জ কবিতামেলা”-২০১৩। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কবি ওয়ালী কিরণকে কবিতায় এবং গবেষণায় শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. তসিকুল ইসলাম রাজাকে ‘কবিকুঞ্জ’ পদক প্রদান করা হয়। প্রকাশ করা হয় দেশ-বিদেশের ১৬৮ জন প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে “কবিকুঞ্জ” দ্বিতীয় সংখ্যা। এবছর কবিকুঞ্জ বর্ষাসংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হয়েছে কবিকুঞ্জ’র ঋতুভিত্তিক প্রকাশনা। একই বছর অক্টোবরের ২৪ ও ২৫ তারিখ দুইদিন ব্যাপী আবার জীবনানন্দ কবিতামেলা ২০১৪ মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের খ্যতিমান লেখক-কবির পদচারণায় রাজশাহীতে কবিতার বিজয় কেতন বাতাসে পতপত করে উড়ে বলে, মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়। এই কবিতা মেলার উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক। আর প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের প্রধানতম কবি সৈয়দ শামসুল হক। ভারত থেকে উপস্থিত হন, কবি সুজিত সরকার, কবি মৃণাল বসু চৌধুরী, কবি অদীপ ঘোষ, তরুণ কবি উল্কা ছাড়াও জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী মহুয়া দাস। মেলা আলোকিত করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা সহ প্রায় দেড়শতাধিক বরেণ্য কবি সাহিত্যিকেরা। এবারের মেলায় ‘কবিকুঞ্জ’ পদক ও সম্মাননা দেয়া হয় কবিতায় কবি সিরাজুদ্দৌলাহ বাহারকে আর গবেষণায় ড. অনুপম হাসানকে।
‘এসো, অফুরন্ত সূর্য আলোর ঈগল।’ জীবনানন্দ দাশ-এর এই অমোঘ উচ্চারণকে সামনে নিয়ে গত ৩০ ও ৩১ নভেম্বর ২০১৫ চতুর্থ জীবনানন্দ কবিতামেলা-২০১৫ আবারও কবিতার আলোড়ন সৃষ্টি করে বাংলা কবিতার চলমান ভূবনে। দেশের আনাচ কানাচ থেকে ছুটে আসেন শতাধিক প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল কবি, সাহিত্যিকরা। ছুটে আসেন ভারত থেকে, কবি মৃণালবসু চৌধুরী, এসেছেন আফসার আমেদ-এর মতো গুণি কথাশিল্পী, গৌতম মিত্র’র মতো জীবনানন্দ গবেষক, কবিও গবেষক প্রফেসর মোশতাক আহমেদ সহ প্রতিশ্রুতিশীল কবি তানিয়া চক্রবর্তী। আর এসেছেন স্বনামে খ্যাত বাচিকশিল্পী কাজল সুর ও মৌমিতা ঘোষ। এবারের মেলার প্রধান অতিথি ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাশিল্পিী হাসান আজিজুল হক। মেলা উদ্বোধন করেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর সনৎকুমার সাহা। এবারের জীবনানন্দ কবিতামেলায় কবিকুঞ্জ পদকে ভূষিত হন কবিতায় কবি আতাউল হক সিদ্দিকী ও গবেষণায় প্রফেসর ড. অনীক মাহমুদ।
‘নতুন তরঙ্গে রৌদ্রে বিপ্লবে মিলন সূর্যে মানবিক রণ’ জীবনানন্দ দাশ-এর কবিতার এমন আশাবাদ চিন্তাকে সামনে নিয়ে ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০১৬ পঞ্চমবারের মতো জীবনানন্দ কবিতামেলা শাহ্ মখদুম কলেজ চত্বরে আবারও দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী কবি লেখকদের মিলনমেলা কবিতার ঢেউ তুলে নেয় রাজশাহীর শহর জুড়ে। বাংলা কথা সাহিত্যের রাজপুত্র হাসান আজিজুল হক এ মেলার উদ্বোধন করেন। আর প্রধান অতিথি ছিলেন জনমানুষের নেতা প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার উত্তম পুরুষ মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হোসেন বাদশা। মেলার দ্বিতীয়দিন রাজশাহী শহরের উপকণ্ঠে সিলিন্দায় চৈতির বাগানে কবি লেখকসহ কবিকুঞ্জ’র সুহৃদ-স্বজনদের নিয়ে যে এক প্রাণের আড্ডা ও বনভোজন এক আনন্দের বন্য বইয়ে দেয় সকলের প্রাণে প্রাণে। এবারের জীবনানন্দ কবিতামেলায় কবিকুঞ্জ পদকে ভূষিত হন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি মাকিদ হায়দার।


কবিকুঞ্জের কার্যক্রম
কবিকুঞ্জ কবি ও কবিতার সংগঠন। ‘জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্তশব্দ কবিতা’ এই বিশ্বাস আর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল চিন্তাকে লালন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক কবিতা আসর সহ, কবি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শামসুর রাহমান সহ দেশের খ্যাতিমান কবি-লেখকদের জন্ম-মৃত্যু বাষিকী পালন করে থাকে। এছাড়া বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ, মহান একুশ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, জাতীয় শোকদিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান করে থাকে। এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে কবিকুঞ্জের বর্তমান নেতৃত্ব ও কবিদের আপ্রাণ কর্ম প্রচেষ্টায়। এ সব কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে খুব অল্প সময়ে কবিকুঞ্জ আজ উভয় বাংলা ছাড়িয়ে বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে কবিতার এক প্রত্যয়ী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সামাজিক কার্যক্রম
মানবিক চেতনাকে ধার ও তার বিকাশ ঘটানো কবিকুঞ্জের অন্যতম এক ধারাবাহিক কার্যক্রম। সে লক্ষে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ সংগঠনটি কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে ঋতুভিত্তিক দুর্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠি সহ আদিবাসীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। ২০১২-১৩ সালে আদিবাসী নারী-শিশু-বৃদ্ধদের মাঝে সহস্রাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ২০১৩-১৪ সালেও একই ধারাবাহিকতায় ৭৫০টি কম্বলসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় আদিবাসীদের মাঝে। আর ২০১৪-১৫ সালে ইউসেফ টিকাপাড়া, রাজশাহীর সুবিধা বঞ্চিত কর্মজীবী শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঁচ শতাধিক কম্বল বিতরণ করা।
বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম
কবিকুঞ্জ তার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সে লক্ষে গঠন করতে যাচ্ছে, ”কবিকুঞ্জ সহায়তা তহবিল”। প্রাথমিক অবস্থায় এ তহবিল গঠনের মাধ্যমে যে কোনো দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার, ঔষধ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হবে। দ্বিতীয়ত, কবিকুঞ্জ যেহেতু কবি ও কবিতার সংগঠন সে কারণে আর্থিক অসঙ্গতি সম্পন্ন কবি-লেখকদের চিকিৎসা ব্যয় ও তাদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে। যা একটি শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
অর্থের উৎস
এখন পর্যন্ত কবিকুঞ্জের অর্থের নির্দিষ্ট কোনো উৎস নেই। সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীদের দেয়া অনুদান আর বাৎসরিক প্রকাশনায় বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের বিজ্ঞাপন হতে প্রাপ্ত অর্থেই কবিকুঞ্জের আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কবিকুঞ্জমেলা
২০১২ সালের অক্টোবর মাসের ২৩ ও ২৪ তারিখে ‘জীবনানন্দ স্মরণোৎসব’-এর মধ্যে দিয়ে কবিকুঞ্জের দুইদিন ব্যাপী বাৎসরিক কবিতামেলা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া স্বত্ত্বেও পিছিয়ে গিয়ে ২০১৪ সালের ১৪ ও ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়, “কবিকুঞ্জ কবিতামেলা- ২০১৩। আর এই বছরের অক্টোবরের ২৪ ও ২৫ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় দুইদিন ব্যাপী “জীবনানন্দ কবিতামেলা-২০১৪”। এসো, অফুরন্ত সূর্য আলোর ঈগল। জীবনানন্দ দাশ-এর এই অমোঘ উচ্চারণকে সামনে নিয়ে গত ৩০ ও ৩১ নভেম্বর ২০১৫ চতুর্থ জীবনানন্দ কবিতামেলা-২০১৫ আর সর্বশেষ ‘নতুন তরঙ্গে রৌদ্রে বিপ্লবে মিলন সূর্যে মানবিক রণ’ এমন আশাবাদ চিন্তাকে সামনে নিয়ে ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০১৬ পঞ্চমবারের মতো জীবনানন্দ কবিতামেলা অনুষ্ঠিত হয়। সকল মেলায় দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান ও প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও লেখিয়েদের সমাবেশে কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় অবদান রেখে আমাদের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
একই সাথে আমাদের নতুন প্রজন্মের শিশুদের মাঝে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, কবিতা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পুরষ্কৃত করা হয়।

কবিকুঞ্জ পদক ও সম্মাননা
কবিকুঞ্জ প্রতি বছরই কবিতা চর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য একজন কবিকে এবং গবেষণায় স্বীকৃতি স্বরূপ একজন গবেষককে “কবিকুঞ্জ পদক” ও আর্থিক সম্মাননা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে কবিতায় কবি আসাদ মান্নান (২০১২), কবি ওয়ালী কিরণ (২০১৩), কবি সিরাজুদ্দৌলাহ বাহার (২০১৪) ও কবি আতাউল হক সিদ্দিকী (২০১৫), কবি মাকিদ হায়দার (২০১৬) আর গবেষণায় কবি ও গবেষক ড. মাহবুব সাদিক (২০১২), ড. তসিকুল ইসলাম রাজা (২০১৩), ড. অনুপম হাসান (২০১৪) ও প্রফেসর ড. অনীক মাহমুদ (২০১৫)কে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।


২০১৬ সালে প্রথম কবিকুঞ্জ ছোটকাগজ সম্মাননা প্রদান প্রদান করে আরো এক ধাপ উচ্চতায় উঠতে সক্ষম হয়। আর প্রথমবারের মতো চালচিত্র সম্পাদক রাজা সহিদুল আসলামকে এই সম্মান প্রদান করে কবিকুঞ্জ।

প্রকাশনা


কবিকুঞ্জের প্রকাশনার মধ্যে সাহিত্যপত্র ’কবিকুঞ্জ’ অন্যতম। জীবনানন্দ স্বরণোৎসব সংখ্যা দিয়ে শুরু হওয়া এই সাহিত্যপত্রটি ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তার পাঁচটি সংখ্যা এরই প্রকাশ করেছে। ষষ্ঠ সংখ্যার কাজও শুরু হয়েছে সামনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে। দেশ-বিদেশের লেখিয়েদের লেখায় সমৃদ্ধ প্রতিটি কবিকুঞ্জ সাহিত্যাঙ্গণে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশের তরুণ সমাজ যে জাগরণ তুলেছিল ঢাকার শাহবাগ থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই জাগরণকে ঘিরে কবিকুঞ্জ এক ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে “জাগরণের কবিতা” কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করে দেশময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।


সাপ্তাহিক কবিতা আসর
কবিকুঞ্জ প্রতি শনিবার বিকেলে নিয়মিত কবিতা আসর করে থাকে। এরই মধ্যে শতাধিক আসরে কবিকুঞ্জের সদস্যরা তাদের নতুন কবিতা নিয়ে উপস্থিত হন। কবিতা পাঠ শেষে পঠিত কবিতার উপরে বিশ্লেষণধর্মী ঋদ্ধ আলোচনা হয়ে থাকে যা নতুন নতুন কবিতা সৃষ্টিতে কবিদের অনুপ্রাণিত করে। নবীন কবিরা এর মধ্যে দিয়ে পাচ্ছে কবিতার ভাষা ও ছন্দ।
মাসিক কবি ও কবিতা
২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাসিক কবি ও কবিতা শিরোনামে একক কবির উপর আয়োজন। এখানে কবির কবিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা, কবির কাবতা নিয়ে আবৃত্তি ও কবিকে নিয়ে প্রকাশনা থাকছে। এই আয়োজন কবিসহ সকল মহলে ইতমধ্যে প্রশংসা পেয়েছে।

 

—///—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here