আলোকিত সীমান্ত। অনুকরণীয় এক উদ্যোগ। রাজা সহিদুল আসলাম

0
611

আলোকিত সীমানন্ত

রাজা সহিদুল আসলাম

‘আলোকিত সীমান্ত’ শব্দ দু’টো প্রথমেই আমাকে আকৃষ্ট করেছে। মহৎ একটি উদ্যোগ। আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে এই কর্মকাণ্ড আমি দেখেছি। এত পরে কেন লিখতে বসেছি – এই রকম প্রশ্ন উঠতে পারে। ‘আলোকিত সীমান্ত’র উদ্দেশ্য লক্ষ্যকে ভুলতে পারিনি বলেই দেরীতে হলেও দুই-চার কথা বলতে চাই। ওবায়দুল্লাহ মাসুদ আমাকে পরিচয় করে দিয়েছে একজন ভাল মানুষের সাথে। তিনি হলেন লেফট্যানন্ট কর্নেল তুষার বিন ইউসুফ। তাঁর কল্যাণেই দেখা ‘আলোকিত সীমান্ত’। বাংলাদেশে এটি একটি মডেল। অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়। ইচ্ছা থাকলে মানুষের জন্য কাজ করা যায় সেটি মনে হয়েছে আমার। এই কাজ হচ্ছে মৌলিক কাজ। নতুন এক আইডিয়া। আমরা প্রায় পত্রিকায় দেখি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, এ সবকে কেন্দ্র করে বিএসএফ কর্তৃক গুলি ছোড়া, মানুষের মৃত্যু – এইসব। কিন্তু কেন হচ্ছে সীমান্তে এইসব অপরাধ? বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-এর কর্মকর্তাগণ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি এসব নিয়ে ভেবেছেন। কী করলে সীমান্ত অপরাধ কমানো যায়। ‘অআলোকিত সীমান্ত’ নতুন চিন্তার সমেয়োপযোগী বাস্তব পদক্ষেট। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘আলোকিত সীমান্ত’ প্রকল্প শুরু হলো তা হচ্ছে এ রকম –
গত ১৯ নভেম্বর ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ৩০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ঠাকুরগাঁও অধীনস্থ রত্নাই বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকার দ্ররিদ্র বাংলাদেশী নাগরিক ২২ বছর বয়সী মোঃ শাহ আলম, পিতা-মোঃ শের আলী, গ্রাম: শুটকী পাড়া, পোস্ট-হরিণমারী, থানা-বালিয়াডাঙ্গী, জেলা-ঠাকুরগাঁও সীমান্ত পিলার ৩৮২/২-এস এর নিকট দিয়ে গরু আনার জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ সকল সীমান্ত দুর্ঘটনা এড়ানোর উদ্দেশ্যে এবং দেশের অভ্যন্তরে সীমাবর্তী দরিদ্র জনসাধারণের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে তথা আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুর এর রিজিয়ন কমান্ডার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় ঠাকুরগাঁও সেক্টরের আওতাধীন ৩০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন প্রকল্প পরিকল্পনা করে। এই প্রকল্পের নাম রাখা হয় ‘আলোকিত সীমান্ত’।
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে –
সীমান্ত অপরাধ হ্রাস করা
সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধ করা
এবং সীমান্তবর্তী দরিদ্র ও ভূমিহীন জনগণের আত্কমর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
যে সব কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো –
ক। গরুর খামার প্রকল্প ।
খ। বায়োগ্যাস প্লান্ট।
গ। জৈব সার প্রকল্প ।
ঘ। মাশরুম চাষ ।
ঙ। মধু চাষ।
চ। ফল এবং ঔষধী গাছের প্রকল্প।
প্রকল্প এলাকা –
৩০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রত্নাই বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকা ‘শুটকিপাড়া’।
সীমান্ত প্রকল্পের সম্পূরক কার্যক্রম সমূহ নিম্নরূপ:
ক। নেপিয়ার ঘাষ চাষ প্রকল্প।
খ। শিশু পার্ক। শিশুদের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মানসিক বিকাশ জন্য।
গ। টিউবওয়েল স্থাপন।
ঘ। ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বরাদ্দ।
ঙ। ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন।
চ। কাঁচা রাস্তা পাকা করণ।
এই প্রকল্পের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছ। বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। এই প্রকল্পের ফলে কিছু মানুয়ের কর্সংস্থান হবে। চাকরির উপর চাপ কমবে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে। সীমানত এলাকায় অপরাধ কমে যাবে সেই সঙ্গে মূল্যবোধ তৈরি হবে। এইসব প্রকল্প পরিবেশ বান্ধব এবং কৃষি সম্পৃক্ত। তাই সমাজে পুষ্টির যোগান বৃদ্ধি পাবে। মানুষ ফরমালিন মুক্ত, কেমিকেলমুক্ত খাদ্যদ্রব্য পাবে যা স্বাস্থ্য সম্মত।এই প্রকল্পে নারী পুরুষের অংশগ্রহণ থাকায় জেন্ডার বৈষম্য ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করছি আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এই প্রকল্প বিশেষ অবদান রাখবে। … তখনই জেনেছিলাম এই রকম প্রকল্প অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি পরবর্তী অগ্রগতি অচিরেই জানাতে পারবো।
নিচে ‘আলোকিত সীমান্ত’র বিভিন্ন প্রকল্পের আলোকচিত্র দেয়া হলো। এই ছবিগুলো প্রকল্প দেখার সময় তুলেছিলাম –

গরুর খামার

মুরগির খামার

মাশরুম প্রকল্প

বায়োগ্যাস প্লান্ট

মধু চাষ প্রকল্প

জৈবসার প্রকল্প

ফল এবং ঔষধী গাছের প্রকল্প

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here