অনুগল্প। গোলাম মুর্তজা সোহাগ-এর পাঁচটি অনুগল্প

0
560

গোলাম মুর্তজা সোহাগ-এর পাঁচটি অনুগল্প

দশ নম্বর খেলা
তখন আমি খুব ছোট। সিক্স বা সেভেনে পড়ি। আমাদের বাসার কাছেই কোর্ট। তার একটা বিশাল কম্পাউন্ড। যা কাচারী নামে পরিচিত। সেখানে কয়েকটি বড় বড় গাছ ছিল। এসব গাছের ছায়ায় বসতো নানা ক্যানভাচার। লেকচার দিয়ে তারা লোক জমাতো। আমাদের যাওয়া নিষেধ থাকলেও মাঝে মাঝে লুকিয়ে সাপ খেলা পদখাতাম। একদিন লুকিয়ে ভীর ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একজন ঝাঁকড়া চুলের তাগড়াই লোক গভীর কণ্ঠে লেকচার দিচ্ছে। সে বললো আজ সে দশটি খেলা দেখাবে। তার মধ্যে প্রথমে কয়েকটা তাসের খেলা। তারপর শারীরিক কসরত আর সাইকেলের খেলা। এভাবে সে এক এক করে নয়টি খেলার বর্ণনা দিলো। কিন্তু দশ নম্বর খেলার কথা শুনে তো আমার বুকের ভেতরটা ছলকে উঠলো। দশ নম্বর খেলায় সে টাঙ্গন নদীর সমস্ত পানি আমাদের মাথার উপর এনে দেখাবে। শুনে আমি এই খেলা দেখার জন্য উৎসাহে উত্তেজনায় প্রায় অজ্ঞান।
এবার সে তার চ্যাংড়া সগরেদের সহায়তায় খেলা দেখানো শুরু করলো। প্রথমের খেলাগুলো সধারণ মনে হোল। ধীরে ধীরে কসরত আর সাইকেলের খেলায় এলে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হোল। সবাই মুহুর্মুহু হাততালি দিচ্ছিল। লোকটি আসলেই সর্কাস জানে। একপাশ থেকে সাইকেল চালনো, দাঁড়িয়ে সাইকেল চালানো, দাঁতের উপর সাইকেল রেখে ব্যাল্যান্স করা, এগুলো আমার খুব ভালো লাগলেও আমি শুধু দশ নম্বর খেলা দেখার জন্য অস্থির হয়ে ছিলাম। এবার খেলার গতি কমিয়ে লোকটি লেকচারের গতি বাড়িয়ে দিলো। প্রচুর মানুষ জমে গেছে। রীতিমত ঠাসাঠাসি অবস্থা। এ পর্যায়ে লোকটি অন্য কথায় চলে গেলো। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। এবং হঠাৎ করেই সে একটা ব্যাগ থেকে কিছু ওষুধের শিশি বের করে উপস্থিত সবার হাতে দিতে লাগল। আরও কিছু কথা বলে সে আর সাগরেদ মিলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে লাগলো। এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই সবাই চলে যেতে শুরু করলো। ভীর কমে যাচ্ছে। লোকটাও তার বাক্স পেটরা গুছাচ্ছে। আমার বুকটা হু হু করে উঠলো। আমি বুঝতে পারলাম আমার আর দশ নম্বর খেলা দেখা হলোনা। দশ নম্বর খেলার কথা সবাই ভুলে গেছে। আমার মনে হোল আমি চিৎকার করে বলি, ভাইসব কেউ যাবেন না। দশ নম্বর খেলা না দেখে কেউ যাবেন না। এই লোক দশ নম্বর খেলা না দেখিয়েই চলে যাচ্ছে।

আনেক সময় পার হয়েছে। অনেক কিছু বুঝেছি। কিন্তু আমার দশ নম্বর খেলা দেখার স্বভাবটা থেকে গেছে। সবখানেই আমি দশ নম্বর খেলা দেখতে চাই। কিন্তু কেউ দেখায় না। তাই বোধহয় আমার এতো অসন্তুষ্টি, আমি এতো অসুখি।

আমার জীবন গাড়ী
আমি তখন খুব ছোট, ক্লাস ওয়ান টু-এ হবো। একদিন সকালে স্কুলে এসে দেখি ছেলেরা বেশ জটলা করছে। ব্যাপার কী ? হ্যা, ব্যাপার হলো একজন বন্ধু একটা খেলনা এনেছে। একটা দামি হলুদ গাড়ি। খুব ছোট্ট একটা ম্যাচ বক্সের সমান হবে সেটা। দামি বলছি এজন্য যে এ ধরনের খেলনা তখন অনেক দামি ধরা হতো, আর ওটার গঠন শক্ত-পোক্ত কোয়ালিটি সম্পন্ন ছিলো। আর যে এনেছিলো সেও ধনী পরিবারের। যা হোক, মজাটা হচ্ছিলো যে গাড়ির নিচে একটা খাঁজ ছিলো, সেখানে একটা পয়সা দিয়ে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে চাবি দিতে হয়। বেশ অনেকগুলো পাক দিতে হয়। তারপর সেটা মেঝেতে ছেড়ে দিলে তীক্ষè কিটকিট আওয়াজ করে চলতে থাকে। একবার চাবি দিলে অনেক্ষণ চলে। কম চাবি ঘোড়ালে কম চলে, বেশী দিলে বেশী। ক্লাস রুমের লম্বা বারান্দায় চলছে গাড়ির খেলা। এর মধ্যে এসেম্বলি হয়ে গেল। ক্লাসে স্যার এখনো আসেন নি। ফাঁক পেয়ে গাড়িতে পুরো কষে চাবি দেয়া হলো। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার আগেই স্যার এসে পড়লেন। বন্ধুটি তাড়াহুড়ো করে গাড়ি তার পকেটে ঢুকিয়ে আমাদের সাথে এক দৌড়ে সিটে। গাড়ি তখন পুরো চাবিতে আছে। বন্ধু পকেটে এক হাত ঢুকিয়ে সেটার চাকা ধরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। ক্লাসে টান টান উত্তেজনা। মাঝে মাঝেই কিটকিট শব্দ বের হচ্ছে। এভাবে কয়েকবার শব্দ হতেই স্যারের কানে গেল। এবার গাড়ি পকেট থেকে বের হলো। স্যার হতভম্ভ হলেও সামলে নিলেন। মৃদু গালমন্দ করে ওটা নিয়ে টেবিলে রাখলেন। গাড়ি চলতে শুরু করলো। স্যার তাড়াতাড়ি আটকালেন যেন টেবিল থেকে পড়ে না যায়। আমরা একটু খিকখিক করে হেসে উঠলাম সুজোগ বুঝে। স্যার এবার গাড়িটা বন্ধুর হাতে দিয়ে তাকে বন্ধ করতে বললেন। বন্ধু আসামীর মত দাঁড়িয়ে রইলো। স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন – বন্ধ করছোনা কেন ? বন্ধু ভয়ে ভয়ে বললো – স্যার এটা থামবেনা। স্যার আবার হতভম্ব হলেন। বললেন – কেন ? বন্ধু বলল – স্যার এটা চালিয়ে শেষ করতে হবে, চাবি দেয়া আছে। স্যার বিষয়টা বুঝলেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বললেন – ঠিক আছে বারান্দায় চালিয়ে শেষ করো চাবি।
আমি ওই ঘটনা মনে পরলে ভাবি , আমার জীবনটাও ওই গাড়ির মত। চাবি দেয়া আছে। এখন তো থামানো যাচ্ছেনা কিছুতেই। মাটিতে, রাস্তায়, ধূলায়, সবুজ প্রান্তরে বা কনক্রিটের আস্তাকুরে যেখানেই হোকনা কেন এটার চাবি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।

বিষ পুষ্প
এক নগরে নগর প্রধানের বাগানে একটি ফুল গাছ ছিল। সে ফুল
গাছটিতে ফুটতো অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল। মন মাতানো সুগন্ধিযুক্ত ফুল। দেখে মুগ্ধ হতো সবাই। নগর প্রধানের ছেলে সেই ফুল প্রতিদিন তার প্রেমিকাকে দিতো। তবে ঐ ছেলের প্রতি আরেকটি মেয়েও দুর্বল ছিল। যদিও ছেলেটি সেই মেয়েটিকে মোটেও পছন্দ করত না। উপেক্ষিত মেয়েটি ছেলেটির এই উপেক্ষা সহ্য করতে পারছিল না। দু’জনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা দেখে হিংসায় ক্রোধে দিন দিন সে হয়ে উঠছিল উন্মত্ত। এভাবে দিনে দিনে মেয়েটি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো। বিশেষ করে ছেলেটির প্রেমিকার প্রতি প্রতিহিংসায় সে হয়ে পড়লো অন্ধ। একদিন মেয়েটি তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একটা বুদ্ধি বেড় করলো। সে খুব কড়া রকমের বিষ যোগাড় করে ঢেলে দিলো ঐ ফুল গাছটির গোড়ায়। পরদিন ছেলেটি আবার তার প্রেমিকাকে ফুল দিয়ে এলো। তার প্রেমিকা সেই ফুল সানন্দে শুঁকতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটি নিশ্বাস বন্ধ হয়ে অনেক কষ্ট পেয়ে ছটফট করতে করতে ঢলে পড়লো মৃত্যুর কোলে।
প্রাণপ্রিয় প্রেমিকাকে হারিয়ে দুঃখ যন্ত্রণায় ছেলেটির পাগল হবার দশা। এরকম সময় একদিন উপেক্ষিত মেয়েটি নিভৃতে তার কাছে এলো সান্ত¦না দিতে। তার হাভভাবে ছেলেটির মনে সন্দেহ জেগে উঠলো। সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। মেয়েটিকে সে জেরা করতে শুরু করলো অস্থির ভাবে। অবশেষে অনেক কথা-কৗশলের পর মেয়েটি বিষ দেবার কথা স্বীকার করলো। শুনে ছেলেটি রাগে দঃখে হতাশায় ভেঙে পড়লো। অবশেষে সে ঐ মেয়েটিকে বললো – তুমি আমাকে সঙ্গীহীন করেছ, তুমিও আমাকে পাবেনা। এই কথা বলে সে ঐ গাছের একটি ফুল চিবিয়ে খেয়ে ফেললো। মৃত্যু যন্ত্রণায় নীল হয়ে কাতরাতে কাতরাতে ছেলেটি মারা গেল। এ ঘটনায় নগরে জুড়ে নেমে এলো শোকের ছায়া। এ শোক কাটতে অনেক সময় লেগেছিল। আর ঐ ফুল গাছটি এখনো আছে। আমাদের আসে পাশেই আছে। যদিও তেজ কমেছে অনেক। হ্যাঁ এটাই হচ্ছে আমাদের অতি পরিচিত ধুতুরা ফুলের গাছ।

মৎস্য কন্যার গল্প
এক লোক সমুদ্রের পাশে বসবাস করতো। সে প্রতিদিন মাছ ধরতো সমুদ্রের তীর ঘেষে। এভাবে মাছ ধরেই তার নিস্তরঙ্গ কঠিন জীবন কেটে যাচ্ছিলো। একদিন হঠাৎ তার সামনে সাগর থেকে এক মৎস্য কন্যা ভেসে উঠলো। লোকটি ভয় পেয়ে গেলো। কিন্তু মৎস্য কন্যার বিষণ্ন মুখ দেখে আবার সাহস ফিরে পেল। মৎস্য কন্যা বললো – তোমার সাথে গল্প করতে এলাম। আমি খুব নিঃসঙ্গ। আমরা বিলুপ্ত হয়ে গেছি। আমি পৃথিবীর শেষ মৎস্য কন্যা। প্রতিদিন তোমাকে একা একা মাছ ধরতে দেখি। তাই মনে করলাম তুমি আমার সাথে কথা বলবে।

লোকটি আসলেই ছিল খুব নিঃসঙ্গ। কারণ তাকে একা একাই সব করতে হতো। মনের কথা বলার কেউ ছিলনা। তাই সহজেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। তারা প্রতিদিন সাগর পাড়ে বসে গল্প করতো। এভাবে মনের কথা বলতে বলতে তারা বুঝলো যে তাদের নিঃসঙ্গতা কমে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা পরস্পরের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পরলো। এমন কী পরস্পরের প্রতি গভীর প্রেমও সৃষ্টি হলো। গল্প আর হাসির মধ্য দিয়ে সময়গুলো কেটে যাচ্ছিলো। লোকটি মৎস্য কন্যাকে স্থলের নানারকম গল্প বলতো, আর মৎস্য কন্যা বলতো সাগরের নিচের গল্প। কিন্তু তারা এভাবে একজন পানিতে একজন ডাঙ্গায় থেকে কথা বলে মজা পাচ্ছিল না। একদিন অধৈর্য হয়ে মৎস্য কন্যা পানি থেকে উঠে এলো। কিন্তু তার শ্বাস কষ্ট শুরু হতেই লোকটি সাথে সাথেই তাকে জোর করে পানিতে পাঠিয়ে দিলো। সে বললো – আমি পানিতে আসছি। মৎস্য কন্যা উদ্বিগ্ন হলো, কারণ মানুষরা তো সাঁতার কাটতে পারেনা। লোকটি মৎস্য কন্যার শত অনুরোধ উপেক্ষা করে পানিতে নেমে পড়লো। পানিতে নেমে সে প্রায় ডুবে যাচ্ছিলো, তবে মৎস্য কন্যার সহযোগিতায় একটু একটু করে ভেসে থাকতে পারলো। এভাবে লোকটি প্রতিদিন পানিতে নেমে মৎস্য কন্যার কাছে সাঁতার শিখতে লাগলো। এরপর এমন হলো যে সে পানির উপড়েই শুধু নয় পানির নিচেও মাছের মতো সাঁতার কাটতে পারলো। যেহেতু তারা দু’জনে একসাথে পানিতেই ঘোরাফেরা করতে পারছিলো তাই তারা অনেক সুখি হলো।

এক সকালে লোকটি তার কুড়ের দরজা খুলে বের হতেই চমকে উঠলো। সে দেখলো সামনেই মৎস্য কন্যা বসে আছে, আর তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। লোকটি অস্থির হয়ে বলল – তুমি এখানে কেন এসেছো। মৎস্য কন্যা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বললো Ñ আমি তোমার সাথে থাকতে চাই, ডাঙ্গায়, তোমার বাসায়। আক্ষেপে লোকটির গলা থেকে আর্ত চিৎকার বেড়িয়ে এলো। সে দেখতে পেলো মৎস্য কন্যা যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাচ্ছে। সে বললো – তুমি যে সেটা পারবেনা তা তো তুমি জানো। তবু কেন এলে? মৎস্য কন্যা বললো – আমি তো গোপনে শিখছি ডাঙ্গায় উঠতে। কিন্তু সে আর কথা বলতে পারছিলো না। লোকটি তাকে কোলে তুলে নিয়ে সাগরের দিকে ছুটলো। বালুর উপড় দিয়ে জোরে ছুটতে পারছিলো না, আবার মৎস্য কন্যার জোড়াজুড়িতে কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। সে হতাশায় ফোঁপাতে ফোঁপাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলো দ্রুত সাগরের কাছে যাবার। কিন্তু দেরি হয়ে গেলো। মৎস্য কন্যা নীল হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করে তার কোলেই মারা গেল। লোকটি কাঁদতে কাঁদতে সাগরে পৌঁছে তার নিথর দেহটা সাগরের বুকে রাখলো। শেষ হয়ে গেল শেষ মৎস্য কন্যা।
হ্যা, তাই মানুষই একমাত্র প্রাণী যে এখনও সাঁতার শিখতে পারে। যদিও আর কোনো মৎস্য কন্যা নেই তবুও সে আজো সাঁতার শিখে চলে।

একটি সরল প্রেমের গল্প
এক রাজ্যে পরাক্রমশালী একজন সম্রাট ছিলেন, তিনি যে শুধু সুবিচারক, সাহসি এবং প্রজা প্রিয় ছিলেন তা নয় তিনি অত্যন্ত দক্ষ যোদ্ধাও ছিলেন। একবার তার রাজ্যের সাথে অন্য রাজ্যের যুদ্ধ বেধে গেলো। সম্রাট নিজেই যুদ্ধ লিপ্ত হলেন। প্রবল যুদ্ধ করে সম্রাট জিতে গেলেন এবং বিজয়ীর বেশে নিজ প্রাসাদে ফিরলেন। এসেই সবার আগে তার প্রিয় সম্রাজ্ঞীকে খুঁজলেন। এদিকে সম্রাজ্ঞীর মনে সন্দেহ ছিল যে সম্রাট হয়তো তাকে ভালো বাসেন না, তাই সম্রাট কী করেন তা দেখার জন্য তিনি মৃতের মতো পড়ে রইলেন এবং চারিদিকে প্রচার হয়ে গেলো যে তিনি হঠাৎ মারা গেছেন। সম্রাট এই খবর শুনে দুঃখে হতাশায় আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। পরক্ষণেই তিনি খুব ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং গর্জে উঠে বললেন – হে ঈশ্বর আমি তোমাকে এত মানি, এত ডাকি, এত ভালোবাসি আর তুমি আমাকে এভাবে বঞ্চিত করলে! আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে এভাবে অসময়ে কেড়ে নিলে, আমি তোমাকে দেখে নেবো। বলেই তিনি একটা তীর ধনুকে লাগিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঊর্ধ্ব মুখে ছুড়ে দিলেন। চারিদিকে হাহাকার উঠলো।
পরাক্রমশালী সম্রাট বলে কথা। সেই তীর ঠিকি ঈশ্বরের কাছে পৌঁছালো। ঈশ্বর দারুন বিব্রত ও রুষ্ট হলেন। তিনি সেই তীর সাথে সাথে আবার ফেরত পাঠালেন, তীর ফিরে এসে বিদ্ধ হলো সম্রাটের বুকে। সাথে সাথে সম্রাট মারা গেলেন। এই ঘটনা দেখে সম্রাজ্ঞী পাগলের মত ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পরলেন সম্রাটের বুকে। তিনি করুন আক্ষেপে ঈশ্বরের কাছে অভিযোগ করলেন – হে ঈশ্বর আমিতো কোন দোষ করিনি। শুধু আমার স্বামীকে একটু পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম, পরিণামে তুমি এত বড় শাস্তি দিলে। আমরা তো সারাজীবন তোমার সেবা করেই আসছি। ঈশ্বর নিশ্চুপ রইলেন। কিন্তু সম্রাজ্ঞীর  অন্তহীন প্রশ্নবানে অবশেষে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেলো। তিনি বললেন – তাকে তো ফেরানো যাবেনা, তবে তুমি যদি তাকে ভালোবেসে তোমার প্রাণ উৎসর্গ করতে পারো তবে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে। এ কথা শোনার সাথে সাথে সম্রাজ্ঞী সম্রাটের বুকের তীরটি টেনে বের করে নিজের বুকে সজোরে ঢুকিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ছটফট করে মারা গেলেন। সম্রাট খুব ধীরে ধীরে জেগে উঠলেন । তিনি মনে করতে পারলেন না কী ঘটেছিলো। সভাসদরা তাকে বুঝতে দিলেন না কিছু। সম্রাট দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে তার স্ত্রীর শেষকৃত্য করলেন। ধীরে ধীরে তার শোক কিছুটা কমে এলো। তিনি প্রজা পালনে ব্যাস্ত হলেন। শুধু সভাসদদের মনে গেঁথে রইলো সেই হৃদয় বিদারক কাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here